আজাদ, মানিকচক: জনসংযোগ কর্মসূচিতে বেরিয়ে মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতাল পরিদর্শনে যান মালদা জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ মণ্ডল। আর তাঁর এই হাসপাতাল পরিদর্শনকে ঘিরে শুরু হয়েছে চরম বিতর্ক।
শুধু তাই নয়, অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন তিনি। এমনকি হাসপাতাল চত্বরের সংরক্ষিত এলাকায় বিনা অনুমতিতে ঢুকে ভিডিওগ্রাফি করেন। যা সরাসরি নিজের ফেসবুক পেজে সম্প্রচারণ করা হয়।


যুব তৃণমূল সভাপতির বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে খোদ মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতালের বিএমওএইচ। যুব সভাপতির কর্মকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষুব্ধ মানিকচকের বিধায়ক সাবিত্রী মিত্রও। সমস্ত ঘটনা জানিয়ে যুব সভাপতির বিরুদ্ধে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ও বিধায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
রাজ্য তৃণমূলের নির্দেশে নিজ নিজ বিধানসভায় জনসংযোগ ও ভুয়ো ভোটার খুঁজতে ময়দানে নেমে পড়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। ব্যতিক্রম নেই মালদাতেও। সোমবার মানিকচকের লাইব্রেরি বুথে জনসংযোগ কর্মসূচিতে যান জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি বিশ্বজিৎ মণ্ডল সহ কর্মীরা। বাড়ি বাড়ি পৌঁছে এলাকাবাসীদের অভাব অভিযোগ শুনে নথিভুক্ত করেন তাঁরা। তারপরেই মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতাল পরিদর্শনে যান।
সেখানেই চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে সরব হন তিনি। হাসপাতালে পৌঁছে প্রথমেই কথা বলেন চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের সঙ্গে। হাসপাতালের মহিলা, পুরুষ, ইমার্জেন্সি, আউটডোর সহ বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করেন। কথা বলেন কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গেও। পরবর্তীতে যান ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কক্ষে। অবশ্য সেখানে সেইসময় উপস্থিত ছিলেন না ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক।
অভিযোগ, সেখানেই তিনি নাকি জানতে পারেন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক হাসপাতাল চত্বরে প্রাইভেট চেম্বারে রয়েছেন। টাকার বিনিময়ে রোগী দেখছেন। সেখানেও রোগী থাকলেও ছিলেন না ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক। আর এই সমস্ত ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ ভিডিও করে সকলের সামনে তুলে ধরেন বিশ্বজিৎ।
আর এই নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অভিকশংকর কুমারের অভিযোগ, ‘হাসপাতালের বিভিন্ন সংরক্ষিত জায়গার লাইভ ভিডিও করা হয়েছে। আমার অনুপস্থিতিতে অনুমতি ছাড়া আমার দপ্তরে প্রবেশ করেছেন এবং ভিডিও করেছেন। এমনকি চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে চিকিৎসক ও কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন বলে জানতে পেরেছি। তিনি আসবেন আমাদের আগাম কিছু জানাননি। এইদিন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা থাকার কারণে আমি হাসপাতালের বাইরে ছিলাম। এসেই এই বিষয়টি জানতে পারি। সমস্ত ঘটনা রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক সাবিত্রী মিত্রকে এবং জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানিয়েছি।’
এই প্রথম নয়, কিছুদিন আগে জনসংযোগ করতে গিয়ে একটি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতির হার নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। এই বিষয়ে তাঁর জবাব, ‘হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ পাচ্ছিলাম। তাই জনসংযোগে বেরিয়ে হাসপাতাল পরিদর্শন করি। এলাকাবাসীদের অভিযোগ সত্যি। সঠিক সরকারি পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে না। টাকার বিনিময়ে চেম্বারে রোগী দেখা হচ্ছে। সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তাও টাকার বিনিময়ে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ সাধারণ মানুষ সরকারি পরিষেবা পাচ্ছে কী না তা খতিয়ে দেখা, তাই করেছি। এদিন চিকিৎসক বা কর্মীদের সঙ্গে কোনও দুর্ব্যবহার করা হয়নি।’
বিশ্বজিৎ মণ্ডলের ভূমিকায় বেজায় ক্ষিপ্ত মানিকচক বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক সাবিত্র। তিনি বলেন, ‘পরিষেবা নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে তা জানাতে হবে। তিনি কোনও কিছু না জানিয়ে যে কাজ করেছেন তা একেবারে দল বিরোধী। আমি রাজ্য নেতৃত্বকে বিষয়টি জানিয়েছি।’

