জসিমুদদ্দিন আহম্মদ ও আজাদ, মালদা ও মানিকচক: ফের মানিকচকে (Manikchak) রূদ্রমূর্তি ধারণ করেছে ফুলহর। গঙ্গার পর এবার ব্যাপক ভাঙন শুর হয়েছে ফুলহরের পাড়ে। ভূতনি বা গোপালপুর নয়, এবারে ফুলহরের ভাঙনের তাণ্ডব মানিকচকের সবচেয়ে জনবহুল এলাকা মথুরাপুর কাঁকরিবাঁধায়। মথুরাপুর কাঁকরিবাঁধায় একেবারে নদীবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক ভাঙন চালাল ফুলহর। গত চারদিনে নদীতীরবর্তী প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ব্যাপক ভাঙন চলছে। তলিয়ে গিয়েছে বোল্ডার পিচিংয়ের কাজও। ঠিক এমন আবহেই মালদার ভাঙনদুর্গতদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বিকেলে মালদা জেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী গঙ্গা ও ফুলহর নদীর ভাঙনে ভিটেমাটিহারাদের জন্য পাট্টা বিলি এবং তাঁদের সরকারিভাবে বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন পরিবারগুলিকেও বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার কথা জানান। মোট ৪৩৪টি বাড়ি এই জেলায় করা হবে বলে জানান।
মানিকচক ব্লকের অন্তর্গত মথুরাপুরের (Mathurapur) কাঁকরিবাঁধা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে ফুলহর। নদী থেকে বাঁধের দূরত্ব মাত্র ২০০ মিটারে পৌঁছে গিয়েছে। বাঁধের একেবারে পাশেই বসতি প্রায় সাতটি গ্রামের হাজার দশেক বাসিন্দার। ২০০৮ সালে পাথর দিয়ে নদীর পাড় বাঁধিয়ে দেওয়ায় প্রায় ১৭ বছর ধরে ভাঙন বন্ধ ছিল। এবার ফের ভাঙন শুরু হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী। সোমবার সাতসকালেই দেখা যায়, নদী তীরবর্তী এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার এলাকা হঠাৎ করেই নদীগর্ভে ধসে গিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হয়েছে বিশাল ফাটল। নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে গাছ। সেচ দপ্তরের কর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও শুধু ছবি তুলে চলে গিয়েছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। নদীর একেবারে ধরেই চাষাবাদ করেন কাকড়িবাঁধা, বাঙালপাড়া সহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা। এবিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সিদ্ধার্থ মণ্ডল বলেন, ‘পাথর দিয়ে পাড় বাঁধানো থাকায় এতদিন রক্ষা ছিল। কিন্তু ফুলহর নদীর জল বাড়ায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন জায়গায় দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। যে রাস্তা দিয়ে জমিতে যাতায়াত করি, সেটিও নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। ফলে অন্যের জমি দিয়ে মাঠে যাচ্ছি।’
যদিও এবিষয়ে মালদা জেলা সেচ দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘কোশী নদীর জল ফুলহরে ঢোকায় এবং ফুলহরের নিজস্ব জলও বাড়ায় এই ভাঙন। ইতিমধ্যে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। কাজের একটি রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হবে। অর্থবরাদ্দ হলেই শুখা মরশুমে কাজ করা হবে।’
এদিকে, ভাঙনদুর্গতদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরই তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে সেকথা জানান দলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী। মুখ্যমন্ত্রীর ভার্চুয়াল মিটিং শেষ হতেই জেলা তৃণমূল কার্যালয় থেকে সাংবাদিক বৈঠক করা হয়। জেলা সভাপতি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের প্রথম সারির নেতা-নেত্রীরা। হাজির ছিলেন ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর ও সেচ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন, জেলা সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ প্রমুখ। আব্দুর রহিম বক্সী জানান, গঙ্গা ও ফুলহরের আগ্রাসনে রতুয়া, মানিকচক, কালিয়াচক ও বৈষ্ণবনগরে বহু মানুষের ভিটেমাটি চলে গিয়েছে। তাঁদের আস্তানা বলে কিছু নেই। এছাড়া বর্ষার মরশুমেও বহু মানুষের কাঁচা বাড়ি ভেঙে গিয়েছে। এমন ৪৩৪টি পরিবারকে রাজ্য সরকার বাড়ি তৈরি করে দেবে। সরকারি ঘোষণা ছাড়াও এসআইআর নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সাংবাদিক বৈঠকে সরব হন তিনি।

