আজাদ, মানিকচক: পুনর্বাসনের দাবিতে ব্লক অফিসের সামনে ত্রিপলের নীচে মঙ্গলবার রাত কাটিয়েছিল দেবরাজ, রুপালিরা। প্রশাসনের আশ্বাস পেয়ে বুধবার বিকেলে আবার রিং বাঁধে ত্রিপলের নীচে অস্থায়ী আস্তানায় ফিরে গেল তারা।
গঙ্গার ভাঙনে ঘর ভেঙেছে কয়েকশো পরিবারের। পুনর্বাসনের জন্য জমি মেলেনি এতদিনেও। মঙ্গলবার সেই পুনর্বাসনের দাবিতে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে মানিকচক (Manikchak) ব্লক অফিস চত্বরে অবস্থান-বিক্ষোভে বসে দেবরাজ, রুপালির মতো প্রায় পঞ্চাশেক কচিকাঁচা। সঙ্গে ছিলেন তাদের অভিভাবকরাও। ডেপুটেশন দিতে চেয়েছিলেন মানিকচকের বিডিও (BDO) অনুপ চক্রবর্তীকে। তবে সরাসরি বিডিওর সঙ্গে কথা বলতে না পেরে ব্লক অফিসের উলটোদিকে শামিয়ানা টাঙিয়ে অবস্থান-বিক্ষোভে বসে পড়েন তাঁরা। সেখানেই রাত কেটেছে। বুধবার মানিকচকের বিএলএলআরও’র প্রতিশ্রুতিতে আশ্বস্ত হন তাঁরা। বিকেলে উঠে যায় আন্দোলন। ভূমি দপ্তরের আধিকারিকরা জানান, ইতিমধ্যেই ভূতনিতে মোট ষোলো একর জমি পাট্টার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে কলোনি তৈরি করে ভিটেহারাদের পুনর্বাসন দেওয়ার প্রক্রিয়া একেবারে শেষপর্যায়ে।
আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল সিপিএম (CPM)। মানিকচক ব্লক অফিসের বিপরীতে, রাজ্য সড়কের ধারে, ত্রিপলের নীচে রাত কেমন কাটল? দেবরাজের সাফ উত্তর, ‘আমরা তো এখন ত্রিপলের নীচেই থাকি। এখানে তাও ঠান্ডায় গায়ে দেওয়ার জন্য মোটা লেপ, কম্বল ছিল। ওখানে তো তাও পাই না। নদীর ধারে খুব ঠান্ডা। শীতকালে খুব কষ্ট পেয়েছি।’ রুপালির মুখেও একই কথা। বলল, ‘ভিটেবাড়ি হারিয়ে গত সাত মাস ধরে ছেঁড়া ত্রিপলের নীচে বাঁধের ওপর আছি। আমরা কোথায় যাব জানি না।’
মঙ্গলবার থেকে ব্লক অফিসের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ চলতে থাকলেও প্রশাসনের তরফে প্রথমদিকে তেমন হেলদোল দেখা যায়নি। একসময় ক্ষুব্ধ হয়ে সিপিএম নেতৃত্বের সঙ্গে ভিটেহারারা মালদা-চাঁচল রাজ্য সড়কের উপরে বসে পড়েন। প্রায় আধঘণ্টা ধরে চলে রাস্তা অবরোধ। পরে পুলিশের অনুরোধে অবরোধ তুলে দিয়ে তাঁরা মানিকচকের বিএলএলআরও কৌশিক রায়কে ডেপুটেশন দিতে যান। আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলে একরাশ আশা নিয়ে আবারও অস্থায়ী ঠিকানায় ফিরে যান সকলে।
মানিকচক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পিংকি মণ্ডল দাবি করেন, ‘খুব শীঘ্রই খাসজমিতে কলোনি তৈরি করে ভাঙনপীড়িতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করছে সরকার। আর এই তথ্য জানা সত্ত্বেও ভোটের আগে কেবল রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ভূতনির ভিটেহারা মানুষদের ভুল বুঝিয়ে বিডিও অফিসের সামনে নিয়ে এসে আন্দোলন করল সিপিএম।’

