উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য মণিপুর (Manipur Earthquake)। মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৫৯ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৫.২। এই কম্পনের উৎসস্থল ছিল মণিপুরের কামজং জেলা (Kamjong)। গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬২ কিলোমিটার নীচে।
ভোরবেলা হঠাৎ এই কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। অনেকেই ঘুমের ঘোরে আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তবে স্বস্তির খবর এই যে, প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত কোনও বড়সড়ো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে কম্পন অনুভূত হয়েছে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশেও।


প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের মাঝেই মণিপুর বর্তমানে তীব্র সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে উপত্যকা ও পার্বত্য জেলাগুলোতে বনধ, প্রতিবাদ এবং সহিংসতার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের হাতে দুই শিশু ও সাধারণ মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রতিবাদে সোমবার রাজ্যজুড়ে জনজীবন কার্যত স্তব্ধ ছিল। মেইতেই অধ্যুষিত পাঁচটি উপত্যকা জেলার পাশাপাশি নাগা অধ্যুষিত উখরুল ও সেনাপতি জেলাতেও এই বনধের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এর ফলে স্কুল, কলেজ, বাজার এবং গণপরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। রাজধানী ইম্ফলের উরিপোক ও নাগারাম সহ বিভিন্ন স্থানে বড়সড়ো প্রতিবাদ মিছিল সংগঠিত হয়েছে।
বিষ্ণুপুর জেলার ত্রোংলাওবিতে গত ৭ এপ্রিল বোমা হামলায় দুই শিশুর মৃত্যুর প্রতিবাদে মহিলা সংগঠন ‘মেইরা পাইবি’ পাঁচদিনের বনধের ডাক দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে ভূমিকম্পের আতঙ্ক এবং অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী জাতিগত ও রাজনৈতিক হিংসা— এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে মণিপুরের সাধারণ মানুষের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।

