গোরিয়া (হরিয়ানা) : টোকিও অলিম্পিকের স্বপ্নভঙ্গ অতীত। প্যারিসে (Paris Olympics 2024) রবিবারের দুপুরটা একান্তভাবেই ছিল মনু ভাকেরের (Manu Bhaker)। শনিবার মহিলাদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তলের ফাইনালে উঠে প্রত্যাশার পারদ চড়িয়েছিলেন। এদিন ভারতের প্রথম মহিলা শুটার হিসেবে অলিম্পিকে মনু পদক জিততেই খুশির ফোয়ারা আসমুদ্রহিমাচলে। ঘরের মেয়ের ব্রোঞ্জ জয়ের শরিক হরিয়ানার ঝাজ্ঝর জেলার গোরিয়া গ্রাম। এখান থেকে উঠে এসেই বিশ্বমঞ্চে দেশকে গর্বিত করেছেন ২২ বছরের মনু।
এই সুন্দরী শুটারের ট্রফি ক্যাবিনেটে অলিম্পিক পদক বাদে সবই ছিল। রবিবার সেই আক্ষেপও মিটিয়ে নিয়েছেন মনু। এদিন প্যারিসে ব্রোঞ্জ গলায় নিয়ে মনু পোডিয়ামে দাঁড়াতেই একরাশ খুশি তাঁর পরিবারে। মেয়ের পদক নেওয়ার ভিডিও দেখার ফাঁকে মনুর বাবা রামকিষান ভাকের বলেছেন, ‘আজ গোটা দেশ মনুর জন্য গর্বিত। এবারের অলিম্পিকে (Paris Olympics 2024) মনুর আরও দুইটি ইভেন্ট বাকি আছে। আশা করছি, ও সেখান থেকেও পদক আনবে। মনু কেন্দ্রীয় সরকার, ভারতীয় শুটিং সংস্থার থেকে প্রচুর সাহায্য পেয়েছে। গোটা দেশের মানুষের আশীর্বাদেই ওর আজকের এই সাফল্য।’
তিন বছর আগে বন্দুকের যান্ত্রিক গোলযোগ মনুকে টোকিও থেকে খালি হাতে ফিরিয়েছিল। সেই হতাশা থেকে বেরিয়ে আসতে মনুর পরিশ্রমের কাহিনী এদিন শুনিয়েছেন তাঁর মা সুমেধা ভাকের। বলেছেন, ‘টোকিও থেকে ফেরার পর প্র্যাকটিসে ডুবে থাকত মনু। মনুর প্রথম শুটিং রেঞ্জ বাড়িই। কিন্তু অনুশীলনের চাপে বাড়িতে রাতে শুধুমাত্র ঘুমানোর জন্য আসত। আমি শুধু চাইতাম, ও যেন সঠিক সময়ে খাওয়া দাওয়া করে। শরীরের খেয়াল রাখে। এখন চাই ও অলিম্পিক শেষ করে সাবধানে ফিরে আসুক।’
নাতনির ঘরে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন মনুর ঠাকুমা দয়া কাউরও। বলেছেন, ‘মনু (Manu Bhaker) গোটা দেশকে গর্বিত করেছে। প্যারিসে যাওয়ার আগে আমি ওকে আশীর্বাদ করেছিলাম। বাড়ি ফিরলে ওর জন্য বিশেষ খাবার বানাব। ওকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় আছি।’
Manu Bhaker | প্রথম মহিলা শুটার হিসেবে অলিম্পিকে পদক জয়, মনুর সাফল্যে খুশির হাওয়া পরিবারে
গ্রাফিক্স - কৃশাণু ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট:
সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে।
ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

