উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পবিত্র ধাম দর্শনে এসে যমুনার জলেই শেষ হয়ে গেল সব স্বপ্ন। উত্তরপ্রদেশের মথুরায় (Mathura) যমুনা নদীতে তীর্থযাত্রী বোঝাই একটি নৌকা উল্টে প্রাণ হারালেন অন্তত ১০ জন। শুক্রবার বিকেলের এই ঘটনায় নিখোঁজ আরও বেশ কিছু পুণ্যার্থী। উদ্ধারকাজের গতি বাড়াতে নামানো হয়েছে এনডিআরএফ (NDRF) এবং এসডিআরএফ (SDRF) টিম।
মথুরা পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩ টে নাগাদ বৃন্দাবনের কেশীঘাটের কাছে একটি পন্টুন ব্রিজের সামনে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। পাঞ্জাব থেকে আসা প্রায় ২৫-৩০ জন তীর্থযাত্রীর একটি দল ওই নৌকায় সওয়ার ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পন্টুন ব্রিজের পিলারে ধাক্কা মারে এবং মুহূর্তের মধ্যে যমুনার উত্তাল স্রোতে তলিয়ে যায়।


মথুরার ডিআইজি শৈলেশ কুমার পাণ্ডে (Shailesh Kumar Pandey) জানিয়েছেন:
- নিহত ও উদ্ধার: নদী থেকে এখনও পর্যন্ত ১০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় ডুবুরি ও পুলিশ বাহিনীর তৎপরতায় ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
- নিখোঁজ: এখনও বেশ কয়েকজন যাত্রী নিখোঁজ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাঁদের সন্ধানে তল্লাশি জারি রয়েছে।
- যৌথ অভিযান: ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের পাশাপাশি উদ্ধারকাজে যোগ দিচ্ছে জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সমাজমাধ্যমে এক বার্তায় তিনি মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ শোক সন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে উদ্ধারকাজে কোনো রকম খামতি না রাখার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। মৃতদের পরিবারকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থার আশ্বাসও দিয়েছে রাজ্য সরকার।
তীর্থক্ষেত্রে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা নৌকার যাত্রী পরিবহনের নিরাপত্তা বিধি নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। লাইফ জ্যাকেট বা নির্দিষ্ট যাত্রী সংখ্যার বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

