অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতাঃ স্বপ্নের প্রত্যাবর্তন। দুরন্ত বোলিং। চার উইকেট দখল। ভাগ্য সহায় হলে সংখ্যাটা বাড়তেই পারত। ১৯ নভেম্বর ২০২৩। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে একদিনের বিশ্বকাপ ফাইনালের আসরে শেষবার ক্রিকেট মাঠে দেখা গিয়েছিল মহম্মদ সামিকে। মাঝে এক বছর পার। গতকাল থেকে ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে বাংলা বনাম মধ্যপ্রদেশ ম্যাচে ফের মাঠে ফিরেছেন সামি।
আর ফিরেই বল হাতে চমক। বাংলার হয়ে প্রথম ইনিংসে মোট ১৯ ওভার করেছেন সামি। যার মধ্যে রয়েছে মোট ৯০টি ডট বল। অতীতের ছন্দে তাঁকে দেখা গিয়েছে হোলকার স্টেডিয়ামে। তাঁর ফিটনেস নিয়েও ঘনিষ্ঠমহলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সামির সঙ্গে ইন্দোরে থাকা বেঙ্গালুরুর জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির ফিজিও নীতীন প্যাটেল। বাংলা-মধ্যপ্রদেশ ম্যাচ এখনও শেষ হয়নি বলে তাঁর রিপোর্ট নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড ও জাতীয় নির্বাচকরা এখনও মুখ বন্ধ রেখেছেন। যদিও সূত্রের খবর, সামি পুরো ফিট। ১৯ ওভার বল করার পরও তাঁর কোনও সমস্যা হয়নি। এমন বিষয় জাতীয় নির্বাচকদের নজরে আসার পরই তাঁকে দ্রুত অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে। বিসিসিআইয়ের একটি বিশেষ সূত্রের দাবি, বড় অঘটন না হলে ৬ ডিসেম্বর থেকে অ্যাডিলেডে নির্দিষ্ট থাকা গোলাপি বলে দিন-রাতের টেস্টের মঞ্চেই আন্তর্জাতিক প্রত্যাবর্তন ঘটতে পারে সামির। বোর্ডের এক শীর্ষ কর্তার কথায়, ‘সামি দুর্দান্তভাবে ক্রিকেটে কামব্যাক করল। বাংলা বনাম মধ্যপ্রদেশ ম্যাচের দিকে আমাদের সবারই নজর রয়েছে। গম্ভীররাও পারথ থেকে সামির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। আগামী কয়েকদিনে ওর চোট নিয়ে নতুন সমস্যা না হলে সামি অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছে। হয়তো অ্যাডিলেড টেস্টের আগেই।’
শেষ পর্যন্ত সামি স্যর ডন ব্র্যাডম্যানের দেশে হাজির হয়ে বর্ডার-গাভাসকার ট্রফিতে অংশ নিতে পারবেন কিনা, আর কয়েকদিনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে ছবিটা। তার আগে বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা বলে দিচ্ছেন, ‘সামি ফিট। এক বছর পর একজন জোরে বোলারের এমন দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন কখনও দেখিনি আমি। ও অস্ট্রেলিয়াতে না গেলেই আমি অবাক হব।’ বাংলার অধিনায়ক অনুষ্টুপ মজুমদারও তাঁর সতীর্থ সামিকে নিয়ে প্রবল আশাবাদী। বলছিলেন, ‘গতকাল সামি দশ ওভার করেছিল। আজ আরও নয় ওভার করেছে। ওর বোলিং দেখে মনেই হয়নি এক বছর ও ক্রিকেটের বাইরে ছিল। আজ তো নিজেই আমার থেকে বল চেয়ে নিয়েছিল একসময়। জাতীয় নির্বাচকদের ভাবনার কথা জানা নেই আমার। তবে আমি জাতীয় নির্বাচক হলে সামির বোলিং দেখার পর ওকে অবশ্যই অস্ট্রেলিয়া পাঠিয়ে দিতাম।’
মধ্যপ্রদেশকে হারিয়ে সামি টিম বাংলাকে রনজি ট্রফিতে অক্সিজেন দিতে পারবেন কিনা, আগামীকালই স্পষ্ট হবে। সঙ্গে শুক্রবারই হয়তো স্পষ্ট হবে সামির মিশন অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাবনাও। প্যাট কামিন্সদের উদ্বেগ বাড়তে চলেছে নিশ্চিতভাবেই।

