উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তিয়া হিলস জেলায় আবারও ফিরে এল অবৈধ কয়লা খনির অভিশাপ। বৃহস্পতিবার থাংঙ্কু এলাকায় একটি খনিতে বিস্ফোরণ (Meghalaya Coal Mine Blast) ঘটে এবং তার ফলে ১৬ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সময় শ্রমিকরা খনির অনেক গভীরে কাজ করছিলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
কী বলছে প্রশাসন ?
পূর্ব জয়ন্তিয়া হিলস জেলার পুলিশ সুপার বিকাশ কুমার জানিয়েছেন, ওই খনিটি অবৈধভাবে চালানো হচ্ছিল বলেই প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং উদ্ধারকাজের জন্য রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (SDRF) সহায়তা চাওয়া হয়। তবে ঘটনার বেশ কিছু সময় পরেও উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছাতে পারেনি বলে জানা গেছে।
মেঘালয়ে এই ধরনের ‘র্যাট হোল’ (Rat-hole mining) বা সরু সুড়ঙ্গ খুঁড়ে কয়লা তোলার ওপর ২০১৪ সালেই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (NGT)। পরিবেশের ক্ষতি এবং জীবনের ঝুঁকি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টও এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে এবং শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক ও নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের অনুমতি দেয়।
‘র্যাট হোল মাইনিং’ কী?
‘র্যাট হোল মাইনিং’ পদ্ধতিতে মাত্র ৩-৪ ফুট উঁচু অত্যন্ত সরু সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়, যেখান দিয়ে একজন মানুষ কোনোমতে প্রবেশ করতে পারেন। ইঁদুরের গর্তের মতো দেখতে বলেই একে ‘র্যাট হোল’ বলা হয়। বিজ্ঞানসম্মত সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় এখানে প্রায়ই ধস বা বিস্ফোরণের মতো দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকার অন্যান্য সন্দেহভাজন অবৈধ খনিগুলোর বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

