পতিরাম: মানসিক ভারসাম্যহীন দুই ভাই–বোনের তাণ্ডবে কার্যত আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে পতিরাম (Patiram) পঞ্চায়েতের অন্তর্গত উত্তর রায়পুর পোদ্দার পাড়া এলাকায়। কয়েক মাস ধরেই তাদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দিনভর রাস্তায় ঘোরাফেরা, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মাঝে মধ্যেই মারতে তেড়ে আসার অভিযোগ উঠেছে ওই ভাই–বোনের বিরুদ্ধে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করায় গোটা পাড়া জুড়ে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দুই ভাই–বোনের বাবা সুশান্ত সাহা একসময়ে পতিরামের পরিচিত মুদি ব্যবসায়ী ছিলেন। প্রায় দশ বছর আগে অসুস্থতার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়। স্ত্রী গৌরী সাহা দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিকভাবে অসুস্থ। ছেলে প্রায় চল্লিশ বছর বয়সি শুভেন্দু সাহা বহু বছর ধরেই মানসিক রোগে ভুগছেন। পরে একই ধরনের অসুস্থতা দেখা দেয় তাঁর বোন মৌমিতা সাহার মধ্যেও। বাবা বেঁচে থাকাকালীন নিয়মিত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারটি চরম সংকটে পড়ে।
অসুস্থ মায়ের পক্ষে সংসার চালানো এবং দুই সন্তানের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা কার্যত অসম্ভব হয়ে ওঠে। একসময়ের সচ্ছল পরিবারটি ধীরে ধীরে দারিদ্রতার কবলে পড়ে। বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের অর্থ ও ব্যাংকে জমানো সামান্য টাকাতেই কোনোমতে দিন গুজরান চলছে। কিন্তু দীর্ঘদিন চিকিৎসা না হওয়ায় দুই ভাই–বোনের মানসিক অবস্থা ক্রমশ আরও খারাপের দিকে যায় বলে দাবি প্রতিবেশীদের।
অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরেই তারা গোটা পাড়ায় তাণ্ডব চালাচ্ছে। কিছুদিন আগে সুচিত্রা রায় নামে এক বয়স্কা মহিলাকে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। দুর্গাপূজার সময়েও স্থানীয় পুজো মণ্ডপে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল তারা। গত তিন দিন ধরে অত্যাচার আরও বেড়েছে। প্রতিবেশী শরিকেরা গেট বন্ধ করে বাড়ির ভিতরে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। লাগাতার হুমকি ও গালিগালাজে কেউই বাড়ির বাইরে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না।
প্রতিবেশী ও আত্মীয় অরূপ সাহা বলেন, ‘কয়েক বছর ধরেই এই সমস্যায় ভুগছি। বাধ্য হয়ে পতিরাম থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে।’ এ বিষয়ে পতিরাম থানার ওসি সৎকার স্যাংবো জানান, ‘বিষয়টি দেখছি। পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের অন্যান্য দপ্তর একসঙ্গে এগিয়ে এলে এই সমস্যার সমাধান সহজ হবে।’ বালুরঘাট ব্লকের বিডিও সোহম চৌধুরীও বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্হা নেওয়া হবে।’

