উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সাত সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে জাহাজের প্রথম কনভয় চলাচলের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। শনিবার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ গুলিবর্ষণের শিকার হয়েছে বলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও শিপিং সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর পুনরায় ‘কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণ’ আরোপ করার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটল।
শনিবার সকালে মেরিটাইম ট্র্যাকার আটটি তেলের ট্যাঙ্কারের একটি কনভয়কে প্রণালী অতিক্রম করতে দেখেছিল। গত সাত সপ্তাহের মধ্যে এটিই ছিল প্রথম বড় ধরনের জাহাজ চলাচল। কিন্তু ইরান অভিযোগ করেছে যে, ওয়াশিংটন তাদের ওপর নৌ-অবরোধ জারি রেখে ‘জলদস্যুতা’ চালাচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান পুনরায় প্রণালীটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনেই (Mojtaba Khamenei) তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে এক উদ্ধত বার্তায় বলেছেন: “ইরানি নৌবাহিনী তাদের শত্রুদের ওপর ‘নতুন তিক্ত পরাজয়’ চাপিয়ে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক ঘণ্টা আগে ইরান সম্পর্কে “বেশ কিছু ভালো খবর” আছে বলে দাবি করলেও বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আগামী বুধবারের মধ্যে শান্তি চুক্তি না হলে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হতে পারে। উল্লেখ্য, বুধবার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে।
কেন এই অস্থিরতা?
- যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ: ইরান (Iran) দাবি করেছে যে, তারা ‘সরল বিশ্বাসে’ কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছিল, কিন্তু মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং ইরানি বন্দর অভিমুখে জাহাজে বাধা প্রদানকে তারা চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।
- লেবানন-ইসরায়েল প্রভাব: গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর ইরান সাময়িকভাবে প্রণালীটি খোলার ঘোষণা করেছিল।
- বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব: বিশ্ব তেলের বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। নতুন করে সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরোপের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দাম নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইরানের সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন ‘উস্কানি’র কারণে তারা জলপথটি আবারও তাদের সরাসরি সামরিক নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে নিয়েছে। এই হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে।

