হরিশ্চন্দ্রপুর: ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে ফের প্রাণ হারালেন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক (Migrant Worker Death)। এবার ঘটনাস্থল পঞ্জাব (Punjab)। সেখানে একটি ভূগর্ভস্থ নর্দমা পরিষ্কার করতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুরের (Harishchandrapur) এক যুবকের। মৃতের নাম আলমগীর হোসেন (২১)। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। দেহ উদ্ধারের পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা খুনের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন।
নিখোঁজ থেকে মৃত্যু: ঘনীভূত রহস্য
হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঙ্গাইপুরের বাসিন্দা আলমগীর দেড় মাস আগে এক স্থানীয় ঠিকাদারের মাধ্যমে পঞ্জাবে কাজ করতে গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার রাত ৯টা নাগাদ সহকর্মীরা পরিবারকে ফোন করে জানায় যে, আলমগীর নর্দমা পরিষ্কার করতে নেমে মারা গিয়েছেন। কিন্তু পরিবারের দাবি, প্রথমে তাঁদের বলা হয়েছিল আলমগীর নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় পাঞ্জাব পুলিশ দেহ উদ্ধার করলে রহস্য আরও বাড়ে। বর্তমানে ঠিকাদারকে ফোন করলে তিনি ফোন ধরছেন না বলে অভিযোগ।
কান্নায় ভেঙে পড়েছে পরিবার
মৃতের স্ত্রী নাসিমা খাতুন জানান, “মঙ্গলবার রাতে শেষ কথা হয়েছিল। ও তো তখন সুস্থই ছিল। বুধবার বিকেলে শুনলাম ও মারা গিয়েছে। আমাদের সন্দেহ ওকে খুন করে নর্দমায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।” নিহতের ভাই শাহিদুল ইসলামের অভিযোগ, বারবার বয়ান বদল করছে সহকর্মীরা। মৃত্যুর সঠিক কারণ কেউ বলছে না। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শোকাতুর পরিজনেরা।
শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর
বৃহস্পতিবার মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান বাম নেতা সেখ খলিল এবং আরজাউল হক। পরিযায়ী শ্রমিকের এই মৃত্যু মিছিলের জন্য রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেছেন তাঁরা। আরজাউল হক তোপ দেগে বলেন, “তৃণমূল সরকার রাজ্যের মানুষকে কাজ দিতে পারছে না, তাই পেটের টানে ভিন রাজ্যে গিয়ে প্রাণ দিতে হচ্ছে বাংলার শ্রমিকদের।” পঞ্জাব পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশের (Police) কাছেও তদন্তের আর্জি জানিয়েছে পরিবার।

