উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ফের ভিনরাজ্যে হেনস্থার শিকার বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক (Migrant Worker Attack)। বিজেপি শাসিত ওডিশায় বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ এক বাঙালি শ্রমিককে বেধড়ক মারধর, টাকা ছিনতাই এবং জোরপূর্বক ধর্মীয় স্লোগান দেওয়ানোর অভিযোগ উঠল। কোনও মতে প্রাণ বাঁচিয়ে হুগলির গোঘাটে নিজের বাড়িতে ফিরেছেন নির্যাতিত যুবক রাজা আলি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।
হুগলির গোঘাটের বাসিন্দা রাজা আলি গত আট মাস আগে কাজের সন্ধানে ওডিশার কটকে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি পাথর শ্রমিকের কাজ করতেন। রাজার অভিযোগ, কাজ শুরু করার কিছুদিন পর থেকেই স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতী তাঁকে বাংলায় কথা বলার জন্য হুমকি দিতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিরাপত্তার খাতিরে রাজার বাড়িওয়ালা তাঁকে ঘরের ভেতর রেখে বাইরে থেকে তালা আটকে দিতেন।
কিন্তু গত বুধবার রাতে ঘটে চরম অমানবিক ঘটনা। রাজার দাবি, বুধবার রাতে ১০-১২ জন দুষ্কৃতী সেই ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং তাঁর জমানো প্রায় ৫০ হাজার টাকা কেড়ে নেওয়া হয়। অভিযোগ, মারধরের সময় তাঁকে জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়।
ঘটনার পর ওই রাতেই চরম আতঙ্কে কটক থেকে বাসে করে বাংলায় ফিরে আসেন রাজা। বর্তমানে বাড়িতে থাকলেও তাঁর চোখেমুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট। রাজা বলেন, “ওরা ১০-১২ জন মিলে আমার ঘরে ঢুকে টাকা নিয়ে নিল, মারল। বাবা-মা বলছে আর যেতে দেবে না। কিন্তু ওখানে না গেলে সংসার চলবে কী করে?” একমাত্র রোজগেরে ছেলের এই দশায় দুশ্চিন্তায় রাজার পরিবার।
এই ঘটনা জানাজানি হতেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বিজেপি শাসিত ওডিশা সরকারের দিকে আঙুল তুলেছে। তৃণমূলের দাবি, পরিচয় এবং ভাষার কারণেই বারবার বাঙালিদের আক্রমণ করা হচ্ছে। আগামী ২২ জানুয়ারি হুগলি সফরে আসছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্যাতিত রাজা আলি তাঁর ওপর হওয়া এই বর্বরোচিত অত্যাচারের কথা অভিষেককে জানাতে চান।
ভিনরাজ্যে বারবার বাংলার শ্রমিকদের ওপর এই ধরনের হামলা কেন হচ্ছে, এবং পরিচয়ই কেন তাঁদের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে—গোঘাটের এই ঘটনা তা নিয়ে জাতীয় স্তরে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

