শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

Manikchak Mim | বাংলার সংখ্যালঘু অঞ্চল ‘টার্গেট’ মিমের, জোড়া পার্টি অফিস উদ্বোধন, শতাধিক মানুষের যোগদান

শেষ আপডেট:

আজাদ, মানিকচক: বিহার বিধানসভা নির্বাচনে পাঁচটি আসন জিতে আত্মবিশ্বাসী মিম। এবার তাদের পাখির চোখ বাংলা। আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের বেশ কয়েকটি আসনে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলেই জানা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে খাতা খুলতে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে প্রথমে ‘টার্গেট’ করে এগোতে চাইছে মিম। বিশেষ করে মালদা ও মুর্শিদাবাদে। শুক্রবার একইদিনে মানিকচকে জোড়া পার্টি অফিস উদ্বোধন করেছে মিম। একটি চৌকি মির্দাদপুর অঞ্চলের সবরাতিটোলায়, অন্যটি নুরপুরের শ্যামলালপাড়ায়।

যে কোনও নির্বাচনে শক্তিশালী সংগঠনই রাজনৈতিক দলের জয়ের পথকে প্রশস্ত করে। ইতিমধ্যেই মালদা জেলায় ব্লক স্তরে নিজেদের সংগঠন মজবুত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে মিম। গত কয়েক বছরে রতুয়া ব্লকে সে কাজে তারা যথেষ্টই সফল। রতুয়ার পাশাপাশি হরিশ্চন্দ্রপুর, কালিয়াচক, বৈষ্ণবনগরেও মিমের পার্টি অফিস রয়েছে। সেখানে নিয়মিত বৈঠকের পাশাপাশি নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়। এবার মানিকচকে দুটি পার্টি অফিস উদ্বোধন স্পষ্ট করে দিচ্ছে, মিম পশ্চিমবঙ্গের ভোটের লড়াইয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ করবে। এখন থেকেই তার প্রস্তুতি শুরু করে দিতে চাইছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে মোথাবাড়ি বিধানসভার মোথাবাড়ি, গঙ্গাপ্রসাদ ও উত্তর লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে মিমের পাঁচজন পঞ্চায়েত সদস্য জয়লাভ করেন। কালিয়াচক-১ পঞ্চায়েত সমিতির কালিয়াচক-সিলামপুর আসনটিও দখল করে মিম। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে পশ্চিমবঙ্গে তারা বিস্তারলাভ করেছে। এদিন বেশ ঘটা করেই পার্টি অফিস উদ্বোধন হয়। মিমের প্রচুর সংখ্যক কর্মী-সমর্থক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রায় শতাধিক মানুষ আনুষ্ঠানিকভাবে মিমে যোগদান করেন। তাঁদের বেশিরভাগই তৃণমূল ও কংগ্রেসের সমর্থক বলে মিমের দাবি। যোগদান সভায় উপস্থিত ছিলেন মিমের মালদা জেলা সভাপতি রেজাউল করিম, রতুয়া-১ ব্লক সভাপতি শেখ জাহািঙ্গর প্রমুখ।

রেজাউল বলেন, ‘তৃণমূলের দুর্নীতিতে বাংলার মানুষ অতিষ্ঠ। দিন-দিন বেকারসমস্যা চরমে উঠছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে বাংলার শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা ভিনরাজ্যে পালাচ্ছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ভুল বুঝিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলছে। মিমকে ভরসা করে তৃণমূল ও কংগ্রেস ছেড়ে সাধারণ মানুষ আমাদের সংগঠনে যোগদান করছে।’

যদিও মানিকচকে মিমকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল। দলের ব্লক সহ সভাপতি ইমরান হাসানের বক্তব্য, ‘শুধুমাত্র বিজেপিকে সুবিধা করে দিতে মিমের এই আস্ফালন। বিহারে মিম কিছুটা সফল হলেও পশ্চিমবঙ্গে মিমের ডাল গলবে না! মিমের আসল উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের কাছে ধরা পড়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে তাদের প্রার্থীরা বাংলার সাধারণ ভোটারদের সমর্থন পাবে না।’

Sandip Sarkar
Sandip Sarkarhttps://uttarbangasambad.com/
Sandip Sarkar Reporter based in Darjeeling district of West bengal. He Worked in Various media houses for the last 22 years, presently working in Uttarbanga Sambad as Sr Sub Editor.

Share post:

Popular

More like this
Related

Cooch Behar | কুকুর ধরতে পুরসভাকে চিঠি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের, পরিকাঠামো নেই, সাফ কথা রবির

কোচবিহার: হাসপাতাল চত্বর থেকে পথকুকুরদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য...

Dinhata | ঐতিহ্যের চালন–কুলো কেনেন আধুনিক বাঙালিও

দিনহাটা: মেয়ের বিয়ে। তাই প্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিস ভালো করে...

Cooch Behar | ১১ জন বাংলাদেশির ‘দেশ’ নয়, ঠাঁই হল হাজতে

কোচবিহার: বাংলাদেশে ফেরত যেতে চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়া ১১...

Haldibari | চেয়ারম্যান পদে শংকর ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে অমিতাভ, হলদিবাড়ি পুরসভায় ‘বিদ্রোহ’

হলদিবাড়ি: দলের নির্দেশ অমান্য করে হলদিবাড়ি পুরসভার নতুন বোর্ডে...