কুমারগঞ্জ ও গঙ্গারামপুর: ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’য় যোগ দিয়ে পতিরামের সভা থেকে তৃণমূল (TMC) ও বিজেপি (BJP)-কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (Minakshi Mukherjee)। দুই দলকেই তিনি ‘গোয়ালঘরে ঢুকে পড়া দুষ্টু বলদ’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর অভিযোগ, এই দ্বৈরথের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলার মানুষ।
মঙ্গলবার সভায় মীনাক্ষী বলেন, ‘তৃণমূল সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতি করতে করতে রাজ্যটাকে শেষ করে দিয়েছে। আর বিজেপি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করে এবং সিএএ ও এসআইআর দিয়ে মানুষকে সারাক্ষণ ভয়ের মধ্যে রাখছে। এই দুই দলকে বিদায় না করলে মানুষের সুখ শান্তি ফিরবে না।’
পাশাপাশি এদিন গঙ্গারামপুর (Gangarampur) চৌপথিতে আয়োজিত সভা থেকে যে সমস্ত নোংরা চরিত্রের মানুষ, লুটেরা, গুন্ডা মাফিয়া লোক রয়েছেন, যাঁরা লোকের খেয়ে নিজের ভুঁড়ি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তাঁদের চিহ্নিত করে টাইট দেওয়ার নিদান দেন সিপিএম নেত্রী। তৃণমূলকে উদ্দেশ্য করে তাঁর কটাক্ষ, ‘এরকম একজনকেও টাইট দিতে পারলে, এই সমস্ত চোরেদের বাপ-বেটারাও টাইট হয়ে যাবে।’
রাজ্য সরকার চাকরি দেওয়ার নামে মিথ্যাচার করছেন বলে এদিন সরব হন মীনাক্ষী। তিনি বলেন, ‘রাজ্যের ৮০ হাজার ৪৮২ বুথে ২ কোটির উপরে চাকরি দিয়েছেন বলে রাজ্য সরকার থেকে যে দাবি করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। সেই হিসাবে প্রতিটি বুথে ২৪৮ জন করে চাকরি পাওয়ার কথা। কিন্তু আমরা বাস্তবে তা দেখতে পারছি না। ভালো চাকরির পরীক্ষা দিয়েও বেকার ছেলে-মেয়েরা চাকরি পাচ্ছেন না। অথচ সাদা খাতা জমা দিয়ে অনেকে চাকরি পেয়ে যাচ্ছেন।’
সারের কালোবাজারি, বীজের কালোবাজারি নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপি একে অপরকে টেক্কা দিচ্ছে বলেও এদিন কটাক্ষ করেন তিনি। এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে, জমি মাফিয়ারা বিএলএলআরও-র সাহায্যে সাধারণ মানুষের জমি দখল করে নিচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে ধর্ষণ, খুন, থ্রেট কালচার চলছে বলেও রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান সিপিএম নেত্রী। যোগ্য শিক্ষকদের পুনরায় কাজে ফেরানোর কথাও এদিন তিনি তুলে ধরেন তিনি। যাদের পেটে ভাত জোটে না, শক্ত প্রাচীরের মতো তাদের পাশে থাকতে এই বাংলা বাঁচাও যাত্রা বলে জানান মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।
এদিন গঙ্গারামপুরের অশোকগ্রাম থেকে কুমারগঞ্জের সাফানগরে প্রবেশ করে সিপিএমের ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’। সেখান থেকে যাত্রা পৌঁছায় গোপালগঞ্জ বাজারে। সেখানে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। গোপালগঞ্জ থেকে যাত্রা বরাহার মোহনা হয়ে ইছামতিতে পৌঁছোলে বহু কর্মী-সমর্থক সেখানে যুক্ত হন। যোগদানকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতি, যা সিপিএমের পুরোনো কর্মী-সমর্থকদেরও নতুন করে সক্রিয় করে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এরপর পতিরাম চৌরঙ্গিতে আরেকটি বড় সভা অনুষ্ঠিত হয়। পতিরামের সভা শেষ করে যাত্রা বালুরঘাটের দিকে রওনা দেয়।

