ফালাকাটা: রাজনীতির রণক্ষেত্রে আবারও ফিরলেন সেই চেনা মেজাজ। বৃহস্পতিবার বিকেলে ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রের (Falakata Assembly) মেজবিলের রাসমেলার মাঠে বিজেপি প্রার্থী দীপক বর্মনের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় প্রধান আকর্ষণ ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)। আধ ঘণ্টার বক্তৃতায় তৃণমূলের কড়া সমালোচনা করার পাশাপাশি উপচে পড়া জনতাকে নিজের আইকনিক ডায়ালগে ভাসিয়ে দিলেন ‘মহাগুরু’।
বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ কোচবিহার থেকে সড়কপথে ফালাকাটায় পৌঁছান মিঠুন। প্রায় দশ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে তিনি তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাব এবং কেবল ‘ভাতা’ দিয়ে মানুষকে ভুলিয়ে রাখা হচ্ছে। এসআইআর (SIR) ইস্যুতে শাসকদলের আন্দোলন নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।
মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে তৃণমূলের প্রচারের পাল্টায় মিঠুন বলেন, “তৃণমূল বলছে বিজেপি এলে নাকি মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। আমি তো সারা দেশ ঘুরি, সব রাজ্যেই ফুটপাতেও মাছ ভাজতে দেখি। এসব স্রেফ ভয় দেখানোর রাজনীতি।”
তবে কেবল রাজনৈতিক ভাষণ নয়, এদিন মিঠুনকে দেখার ও তাঁর ডায়ালগ শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন হাজার হাজার মানুষ। নিরাশ করেননি মহাগুরুও। বক্তৃতার শেষে যখন তিনি বলতে শুরু করেন, “মারবো এখানে, লাশ পড়বে শ্মশানে” কিম্বা “আমি জলঢোড়াও নই, বেলেবোড়াও নই, আমি জাত গোখরো, এক ছোবলেই ছবি”— তখন গোটা মেজবিলের মাঠ হাততালিতে ফেটে পড়ে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, মিঠুন অর্ধেক ডায়ালগ বলতেই বাকিটা বিজেপি কর্মীদের মুখে শোনা যায়।
এদিনের সভা ঘিরে মেজবিলের রাসমেলার মাঠে ছিল চোখে পড়ার মতো ভিড়। মিঠুন চক্রবর্তীর এই ম্যাজিক উত্তরবঙ্গের ভোটে বিজেপিকে বাড়তি অক্সিজেন দেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

