কল্লোল মজুমদার ও রাহুল দেব, মালদা ও রায়গঞ্জ: শেষ পরিবর্তন যাত্রা। এবার লক্ষ্য আগামী ১৪ মার্চ ব্রিগেডে মোদির জনসভা। পদ্ম শিবিরে শুরু হয়ে গিয়েছে চরম প্রস্তুতি। আগামী ১৩ মার্চ বিজেপির চার সাংগঠনিক জেলাকে নিয়ে গঠিত মালদা বিভাগ থেকে ৯টি আস্ত ট্রেন (Modi Brigade Rally Train Controversy) রওনা দেবে ব্রিগেডের উদ্দেশ্যে। আর ট্রেনের সংখ্যাটা পুরো উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে প্রায় দুই ডজন। দলীয় সূত্রে খবর, এক একটি ট্রেনের ভাড়া ২২ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা। আর এখানেই উঠেছে প্রশ্ন, এত টাকা কে দিচ্ছে? প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। এত টাকা পাচ্ছে কোথায় বিজেপি, প্রশ্ন তুলে তদন্তের দাবি তুলেছেন কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরী। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় দাবি করেন, ‘পুরো টাকাটাই বিজেপির রাজ্য কমিটি নির্দিষ্ট জায়গায় জমা দেয়। এরপর আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চলে আসে। অনেক সময় আমরাও টাকা জোগাড় করি। এই নিয়ে বিরোধীদের মাথাব্যথা কেন বুঝতে পারছি না।’
জেলা সভাপতি দাবি করলেও ট্রেন ভাড়া নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। দক্ষিণ মালদার সাংসদ বলেন, ‘আমরা জানি একটি ট্রেনের জন্য প্রায় ২২ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা করে রেলমন্ত্রকের কাছে জমা দিতে হয়। আর যদি ধরেই নিই দশটি ট্রেন নেওয়া হয়েছে এবং টাকা জমা দেওয়া হয়েছে তবে সে পরিমাণটা আড়াই কোটি টাকার কাছাকাছি। কে দিচ্ছে ওই টাকা? আদানি, আম্বানিরা? তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’
সিপিএমের জেলা সম্পাদক কৌশিক মিশ্রের কথায়, ‘টাকা দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে হাত করে, চক্রান্ত করে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন লড়তে চাইছে বিজেপি। কোটি কোটি টাকা খরচ করে ট্রেন ভাড়া করে ব্রিগেডে লোক নিয়ে যাওয়া তারই প্রমাণ।’ আবার জেলা তৃণমূলের যুব সভাপতি প্রসেনজিৎ দাসের মন্তব্য, ‘বাংলার মানুষের উন্নয়নের টাকা আটকে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। আর ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ভরাতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে ট্রেন ভাড়া করা হচ্ছে।’
বিজেপি সূত্রে খবর, ১৩ মার্চ রাতে মালদার (Malda) দুই সাংগঠনিক জেলার ৯টি ট্রেন ব্রিগেডের উদ্দেশ্য রওনা দেবে। এর মধ্যে দক্ষিণ মালদা, উত্তর মালদা এবং ফরাক্কার জন্য তিনটি করে ট্রেন বরাদ্দ হয়েছে। এই সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে বলে দাবি করেছেন দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি। বুধবার তিনি বলেন, ‘উত্তরবঙ্গ থেকে আমাদের এক লক্ষ কর্মী-সমর্থকদের ব্রিগেডে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গে শেষ হওয়া পরিবর্তন যাত্রার উৎসাহ দেখে আমরা আশা করছি, এই সংখ্যাটা আরও বাড়বে।’
উত্তর দিনাজপুর (Uttar Dinajpur) জেলা থেকে ছয় হাজার দলীয় কর্মী-সমর্থক উপস্থিত থাকবেন বলে বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে। এদিন দুপুরে দলের জেলা কার্যালয়ে জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজ জানান, ব্রিগেড সমাবেশে যাতায়াতের জন্য দুটি ট্রেন রিজার্ভ করা হয়েছে। রায়গঞ্জ, ইটাহার, হেমতাবাদ ও কালিয়াগঞ্জ বিধানসভার নেতা-কর্মীরা রাধিকাপুর স্টেশন থেকে উঠবেন। করণদিঘি, ইসলামপুর, গোয়ালপোখর ও চাকুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের নেতা-কর্মীদের জন্য ট্রেন থাকবে ডালখোলা স্টেশনে। দলের তরফে ট্রেনে খাওয়াদাওয়ার জন্য মুড়ি, শসা, চানাচুর, কাঁচা লংকা কেনা হয়েছে।

