উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আবহে এবার বাংলার রাজনীতিতে প্রবেশ করল ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ আবেগ। বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন মাছের উৎপাদন নিয়ে রাজ্যকে কাঠগড়ায় তুললেন, ঠিক তখনই উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁ থেকে পালটা তথ্য দিয়ে জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Modi-Mamata)। আমিষ আহার ঘিরে বিজেপির বিরুদ্ধে ওঠা তৃণমূলের অভিযোগ খণ্ডন করতে গিয়েই এদিন মৎস্য আখ্যান শোনা গেল প্রধানমন্ত্রীর মুখে।
হলদিয়ায় মোদির আক্রমণ:
বিজেপি আমিষ বিরোধী—তৃণমূলের এই লাগাতার প্রচারের পালটা চাল হিসেবে এদিন পূর্ব মেদিনীপুরের মৎস্যজীবীদের মন জয়ের চেষ্টা করেন মোদি (PM Narendra Modi)। তিনি অভিযোগ করেন, “মাছের বিপুল চাহিদা থাকলেও তৃণমূল সরকারের অপশাসনে বাংলা মৎস্য উৎপাদনে পিছিয়ে রয়েছে। প্রতিবেশী রাজ্য বিহারে উৎপাদন দ্বিগুণ হলেও বাংলাকে এখনও অন্যান্য রাজ্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়।” প্রধানমন্ত্রীর দাবি, ‘পিএম মৎস্য সম্পদ’ যোজনার নাম বদলে দিচ্ছে রাজ্য, যার ফলে সাধারণ মৎস্যজীবীরা কেন্দ্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ক্ষমতায় এলে মাছ চাষে বাংলাকে আত্মনির্ভর করার আশ্বাস দেন তিনি।
মিনাখাঁয় মমতার পালটা প্রতিরোধ:
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিনাখাঁর সভা থেকে গর্জে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। তিনি দাবি করেন, “মাছ উৎপাদনে বাংলা আজ স্বাবলম্বী। এখন আর অন্য রাজ্যের ওপর মাছের জন্য আমাদের নির্ভর করতে হয় না।” ইলিশ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আগে ইলিশের জন্য শুধু বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো, কিন্তু এখন ডায়মন্ড হারবারের রিসার্চ সেন্টারের গবেষণায় বাংলাতেই প্রচুর ইলিশ হচ্ছে। এমনকি ছোট মাছ সংরক্ষণের জন্য চুনোপুঁটি প্রকল্প এবং মৎস্যজীবীদের জন্য আলাদা কার্ডের সুবিধাও রাজ্য সরকার করে দিয়েছে বলে জানান তিনি।
আমিষ বিতর্ক ও রাজনৈতিক সমীকরণ:
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির খাদ্যাভ্যাস বদলে দেবে—তৃণমূলের এই প্রচার রুখতেই মোদির এই কৌশলী চাল। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর গড় পূর্ব মেদিনীপুরে দাঁড়িয়ে মোদির মৎস্য প্রেমকে ‘ভোটের গিমিক’ হিসেবেই দেখছে শাসকদল। ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোটের আগে এই মৎস্য-যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কার পাতে ভোট তুলে দেয়, সেটাই এখন দেখার।

