অরিন্দম বাগ, মালদা: কালিয়াচক-২ ব্লকে বিচারকদের ঘেরাও এবং রাস্তাতেই মহিলা বিচারপতির গাড়ি আটকে রাখার ঘটনায় শনিবার আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করল মোথাবাড়ি থানার পুলিশ। এ নিয়ে মোথাবাড়ির ঘটনায় (Mothabari Case) মোট ২৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। এদিকে শুক্রবারই পুলিশ দাবি করেছিল, মালদা জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় হিংসার ঘটনা ঘটেছে, যার মূল প্ররোচক ছিলেন মোফাক্কেরুল ইসলাম। যদিও ধৃত মোফাক্কেরুলের যে সমস্ত ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, তা সুজাপুর সহ কালিয়াচক-১ ব্লক এলাকার। একই দাবি করেছিলেন মোফাক্কেরুলও। তবে কেন রাজনৈতিক মহল পুরো ঘটনার পেছনে মোফাক্কেরুলকে জড়িয়ে ফেলছে? সত্যিই কি মোথাবাড়িতে বিচারকদের হেনস্তার পেছনে মোফাক্কেরুলের ইন্ধন ছিল? নাকি শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সফল করতে কিংবা ব্যর্থতা ঢাকতে মোফাক্কেরুলকে ফাঁসানো হচ্ছে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে মালদাবাসী।
ফেসবুকে মোফাক্কেরুলের ফলোয়ার ২৯ লক্ষ। এছাড়াও একাধিক ফ্যান পেজ রয়েছে। সেসবেও লক্ষাধিক ফলোয়ার। এতে বোঝাই যায়, মোফাক্কেরুলের সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। ঘটনার দিন মালদা জেলার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ চলছিল। সুজাপুরে রাস্তা অবরোধ করে খিচুড়ি রান্না করা, রাস্তায় পাতা পেতে খিচুড়ি খাওয়ার ভিডিও নিমেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছিল। রাতে যখন সুজাপুর এলাকায় মোফাক্কেরুল পৌঁছান, সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় সুজাপুরের আন্দোলন ট্রেন্ডিংয়ে চলছে বলা যেতে পারে। পাশাপাশি, সেই সময় গাড়িতে উঠে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে মোফাক্কেরুলের বার্তা কয়েক হাজার মানুষ রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাড়েন। অনেকেই আবার পুরো ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়াতে লাইভ স্ট্রিম করেন। সেই ভিডিও কালিয়াচক-২ ব্লকে বিক্ষোভকারীদের কাছেও পৌঁছে যায় বলেই মনে করছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ।


এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ফোন কল রেকর্ডিংও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে মোফাক্কেরুল বলছেন, ‘মোথাবাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছি, ওটা উঠিয়ে দিয়েছি। জেলা শাসক, পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা হয়েছে, ওঁনারা চারদিন সময় চেয়েছেন। চারদিন পর যদি কাজ না হয়, তবে আবার হবে। এখন অবরোধ তুলে নাও।’ যদিও এই কল রেকর্ডিংয়ের সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ।
মোফাক্কেরুল গ্রেপ্তার হতেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। শাসকদল তৃণমূল মোফাক্কেরুলকে বিজেপির বি টিমের সদস্য বলছে। পালটা গেরুয়া শিবির আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মোফাক্কেরুলের ছবি সামনে এনে পুরো ঘটনাকে শাসকদলের চাল বলে দাবি করছে।

