উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ওপার বাংলায় (Bangladesh) সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর চলা ধারাবাহিক নির্যাতনের আবহে কড়া বার্তা দিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (RSS Chief Mohan Bhagwat)। রবিবার মুম্বইয়ের নেহরু সেন্টারে সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক বক্তৃতাসভায় তিনি স্পষ্ট জানান, বাংলাদেশে বসবাসকারী ১ কোটি ২৫ লক্ষ হিন্দু যদি নিজেদের অধিকার রক্ষায় রুখে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন, তবে বিশ্বের কোণায় কোণায় থাকা হিন্দু সমাজ তাঁদের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা করবে (Hindu unity)।
গত ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে চরম অরাজকতা ও সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। ঘরবাড়ি ভাঙচুর থেকে শুরু করে প্রাণহানির মতো ঘটনায় উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই ভাগবতের মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় ১.২৫ কোটি হিন্দু রয়েছেন। তাঁরা যদি সেখানে থেকে লড়াই করার সংকল্প করেন, তবে সারা বিশ্বের হিন্দুরা তাঁদের পাশে দাঁড়াবে।’
এদিনের সভায় ভারতের অভ্যন্তরীণ জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়েও মুখ খোলেন ভাগবত। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলি জন্মহার নিয়ন্ত্রণ এবং অনুপ্রবেশের মতো বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনবিন্যাসে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার এই বিষয়ে সচেষ্ট হওয়ায় তিনি আশাপ্রকাশ করেন। দেশের অখণ্ডতা প্রসঙ্গে তাঁর হুঙ্কার, ‘ভারতকে আর ভাঙা সম্ভব নয়। যারা ভারতকে ভাঙার চেষ্টা করবে, তাঁরাই ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।’
পাশাপাশি, আরএসএস-এর অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও আদর্শ নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। সংঘ প্রধান জানান, আরএসএস কোনও কর্পোরেট ফান্ড বা বাইরের অর্থের ওপর নির্ভরশীল নয়; কর্মীরাই এই সংগঠন চালান। জাতপাত নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি সাফ জানান, সংঘে কোনও জাতিগত বৈষম্য নেই। যে কোনও জাতের ব্যক্তিই সংঘের প্রধান হতে পারেন। পরিশেষে তিনি মনে করিয়ে দেন, ১৯২৫ সালে কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার যখন এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাঁর মূল লক্ষ্যই ছিল সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা।
