উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: তিনি একাধারে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) প্রধান, অন্যদিকে দেশের প্রভাবশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আবার এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলেরও শীর্ষ পদটি তাঁর দখলে। মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi)— পাকিস্তানের বর্তমান শাসনকাঠামোয় এমন এক নাম, যাঁর উত্থান যেমন উল্কাবেগে, তাঁর কর্মকাণ্ড তেমনই বিতর্কিত। সম্প্রতি জেলবন্দি ইমরান খানের বোনেরা অভিযোগ তুলেছেন, সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইমরানকে হত্যার ছক কষছেন এই নকভিই।
নকভির কেরিয়ার শুরু হয়েছিল সাংবাদিক হিসেবে। কিন্তু সেই পেশাতেও জালিয়াতির কালি লেগেছিল তাঁর গায়ে। হ্যারিস স্টিল মিলের ৯ বিলিয়ন টাকার বিশাল জালিয়াতি মামলায় প্রায় সাড়ে ৩৫ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তবে সেই বিতর্ক তাঁর উত্তরণ রুখতে পারেনি। ২০২৩ সালে তিনি পাঞ্জাব প্রদেশের তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী হন এবং সেখান থেকেই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর প্রবেশ।
ইমরান খানের দল ‘তেহরিক-ই-ইনসাফ’-এর পতনের নেপথ্যে নকভির ভূমিকা অনস্বীকার্য বলে মনে করা হয়। অভিযোগ ওঠে, বিরোধী দলের সমর্থকদের ধরপাকড় এবং কণ্ঠরোধ করতে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। বর্তমানে আদিয়ালা জেলে বন্দি ইমরান যখন ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন, তখন খুনের চক্রান্তের অভিযোগে বিদ্ধ হচ্ছেন নকভি। যদিও এই অভিযোগকে তিনি ‘অমূলক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
নকভির মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে তিনি ‘সিটি মিডিয়া গ্রুপ’ প্রতিষ্ঠা করেন। বিতর্ক পিছু ছাড়েনি তাঁর স্ত্রীরও। নকভির স্ত্রী ওয়ারদা আশরাফ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান। ২০২২ সালের দুবাই রিয়াল এস্টেট কেলেঙ্কারিতে বিশ্বের যে সব ধনকুবের ও প্রভাবশালীদের গোপন সম্পত্তির তথ্য ফাঁস হয়েছিল, সেখানে নাম ছিল ওয়ারদার।
২০২৪ সালে পিসিবি প্রধান হওয়ার পর ক্রিকেট বিশ্বের অদ্ভুত সব কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি। ভারত-পাক দ্বৈরথের পর ট্রফি নিয়ে তাঁর চম্পট দেওয়ার ঘটনা বিশ্বজুড়ে হাসির খোরাক হয়েছিল। অপারেশন সিঁদুরের প্রেক্ষাপটে ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব সৌজন্য দেখাতে অস্বীকার করায় রাগে ট্রফি নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন নকভি। এমনকি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকিও শোনা গিয়েছিল তাঁর মুখে।
তবে ক্ষমতার মধ্যগগনে থাকা নকভির ওপর এখন কালো মেঘ জমছে। ক্রিকেটীয় ব্যর্থতা এবং কথায় কথায় সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নাম টেনে আনার কারণে খোদ সেনাবাহিনী তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট বলে খবর। পাকিস্তানের মাটিতে যে কোনও সময় নকভির রাজনৈতিক ভাগ্য পেন্ডুলামের মতো ঘুরে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

