উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতার (Iranian Supreme Leader) আসনে বসার পর নিজের প্রথম প্রকাশ্য বার্তাতেই রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন মোজতবা খামেনেই (Mojtaba Khamenei First Speech)। আমেরিকা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির দিন শেষ হয়ে এসেছে। অন্যথায় বড়সড় হামলার মুখে পড়তে হবে ওয়াশিংটনকে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী (Strait Of Hormuz) সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আমেরিকাকে কড়া বার্তা:
ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পাঠ করা এক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনেই দাবি করেছেন, এই অঞ্চলে থাকা সমস্ত মার্কিন ঘাঁটি (US military bases in Middle East) অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তাঁর ভাষায়, “যদি এই ঘাঁটিগুলো সরিয়ে নেওয়া না হয়, তবে আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য হবে ওই সামরিক কেন্দ্রগুলোই।” উল্লেখ্য, দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত মোজতবাকে জনসমক্ষে দেখা না গেলেও তাঁর এই কড়া বার্তা হোয়াইট হাউসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালীকে হাতিয়ার করার কৌশল:
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে ইরানের অবস্থান আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দিয়েছেন নতুন নেতা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশ্ব রাজনীতিতে দরকষাকষির জন্য এই জলপথকে ‘লিভারেজ’ বা চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে তেহরান। প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করার হুমকিও তাঁর বার্তায় স্পষ্ট ছিল।
প্রতিবেশীদের সতর্কতা ও প্রতিশোধের সংকল্প:
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বললেও মোজতবা একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন—কোনোভাবেই যেন তারা মার্কিন বাহিনীকে আশ্রয় না দেয়। একইসঙ্গে মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১১০ জন শিশুসহ ১৬৮ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। খামেনেইর হুঁশিয়ারি, “ইরানিদের রক্ত বৃথা যাবে না, আমরা প্রতিশোধ নিতে দ্বিধা করব না।” মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মোজতবা খামেনেইর এই ‘হার্ডলাইন’ অবস্থান ইরান-মার্কিন সম্পর্ককে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

