উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের (Mojtaba Khamenei) শারীরিক অবস্থা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইজরায়েল ও আমেরিকার যে যৌথ হামলায় আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছিল, সেই একই হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনেই। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ওই হামলায় তিনি একটি পা হারিয়েছেন এবং তাঁর মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে বিকৃত হয়ে গিয়েছে। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি মানসিকভাবে অত্যন্ত দৃঢ় এবং হাসপাতাল থেকেই ভার্চুয়ালি সরকারি কাজকর্ম ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলি পরিচালনা করছেন।
সূত্রের খবর, মধ্য তেহরানের সর্বোচ্চ নেতার কম্পাউন্ডে শত্রুপক্ষের ফেলা বোমায় মোজতবার স্ত্রীও প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও অডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়মিত সেনা ও সরকারি আধিকারিকদের নির্দেশ দিচ্ছেন। বিশেষ করে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের যে শান্তি আলোচনা চলছিল, হাসপাতাল থেকেই তার ওপর নজর রেখেছিলেন তিনি। ইরানের সংবাদমাধ্যমে তাঁকে ‘জানবাজ’ (যুদ্ধে জখম) বলে অভিহিত করা হলেও, সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত তাঁকে একবারও জনসমক্ষে দেখা যায়নি।


এদিকে, পাকিস্তানে আয়োজিত আমেরিকা ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত ছাড়াই ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকের পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের একগুঁয়েমি এবং অযৌক্তিক দাবির কারণেই কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। মার্কিন প্রতিনিধি দল খালি হাতেই ওয়াশিংটনে ফিরে গিয়েছে। অন্যদিকে, ইরান এই ব্যর্থতার জন্য আমেরিকার ওপরই দায় চাপিয়েছে। মোজতবা খামেনেই প্রকাশ্যে না আসায় এবং আলোচনার পথ রুদ্ধ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ আরও চড়বে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

