জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়িঃ লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হতে না হতেই দিল্লিতে ডাক পড়ল জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের জয়ী বিজেপি প্রার্থী তথা এই কেন্দ্রেরই বিদায়ি সাংসদ ডাঃ জয়ন্তকুমার রায়ের। বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তাঁকে দিল্লি পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়েছে বিজেপি হাইকমান্ড। উল্লেখ্য, অতি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জরুরি বার্তা পাঠিয়ে জয়ন্তবাবুর বায়োডেটা চেয়ে পাঠানো হয়। ইতিমধ্যে তিনি তা পাঠিয়েও দিয়েছেন। ফলে এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় জলপাইগুড়ির সাংসদের স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে বিজেপি শিবিরে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, এবারও কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার বিষয়ে নরেন্দ্র মোদি প্রথম থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তাই তিনি অনেক আগেই তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন ক্যাবিনেটে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নামের তালিকা প্রস্তুত করে রেখেছেন। এজন্য বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিগত লোকসভার পারফরমেন্সের নিরিখে বিদায়ি সাংসদদের বায়োডেটাও সংগ্রহ করতে শুরু করেছে। তবে উত্তরবঙ্গ থেকে এখনও পর্যন্ত জয়ন্তকুমার রায় ছাড়া অন্য কোনও সাংসদের বায়োডেটা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে চেয়ে পাঠানোর খবর পাওয়া যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রে দ্বিতীয়বার জয়লাভের পর জয়ন্তকুমার রায়ের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলে মনে করছেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা।


বিজেপি সূত্রেই জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জয়ন্ত রায়ের কাছে বেশ কিছু তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে রয়েছে, কবে কোন সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কোন সালে তিনি ডাক্তারি পাশ করেন, তাঁর ছেলেমেয়ের সংখ্যা কত, তাঁর সন্তানরা বর্তমানে কী করছেন, পরিবারে আর কে কে রয়েছেন ইত্যাদি নানা কিছু। জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পর জয়ন্ত সেগুলি যথা সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠিয়েও দেন। এরপরই বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাঁকে দিল্লিতে হাজির হওয়ার নির্দেশ আসে। বিষয়টি জানাজানি হতেই দারুণ খুশি জেলার বিজেপি কর্মীরা। বিজেপি কর্মীরা মনে করছেন, সাংসদ থাকাকালীন সময়ে গত পাঁচ বছর ধরে জয়ন্তকুমার রায় এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা যথাযথভাবে তুলে ধরেছেন সংসদে। এলাকার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। তাই সাংসদ হিসেবে গতবারের পারফরমেন্সের ভিত্তিতে এবার সম্ভবত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় স্থান দিতে চাইছে বিজেপি হাইকমান্ড।
এ বিষয়ে বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামী শুধু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জয়ন্তকুমার রায়ের বায়োডেটা চাওয়া হয়েছিল। তিনি তা পাঠিয়ে দিয়েছেন।’

