বহরমপুর: সম্পর্কের টানাপোড়েন ও প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের জেরে এক গৃহবধূকে হাঁসুয়া দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। আক্রান্ত ওই গৃহবধূকে কোপানোর পর নিজেও গলায় হাঁসুয়া চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে অভিযুক্ত যুবক। বৃহস্পতিবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের লালবাগ মহকুমার (Murshidabad) সুদর্শনগঞ্জ এলাকায় এই হাড়হিম করা ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বর্তমানে দু’জনই আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জখম গৃহবধূ পম্পা খাতুন (নাম পরিবর্তিত) দুই সন্তানকে নিয়ে সুদর্শনগঞ্জ এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে গত এক মাস ধরে থাকছিলেন। তাঁর স্বামীর নাম সাবিরুল শেখ। পারিবারিক বিবাদের কারণে স্বামী আলাদা থাকলেও পম্পা তাঁর সন্তানদের নিয়ে জীবন অতিবাহিত করছিলেন। অভিযোগ, অভিযুক্ত যুবক শাহিল শেখ পম্পাকে বিবাহিত জানা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহিল আচমকাই পম্পার ভাড়া বাড়িতে হাজির হয় এবং পুনরায় বিয়ের প্রস্তাব দেয়। পম্পা তাঁর স্বামী ও সন্তানের কথা ভেবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে শাহিল রাগের মাথায় কাছে থাকা হাঁসুয়া নিয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় পম্পা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে, শাহিল সেই একই অস্ত্র দিয়ে নিজের গলায় কোপ বসিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করে।
আর্তচিৎকার ও গোলমাল শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন এবং রক্তাপ্লুত অবস্থায় দু’জনকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ (Police) ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু দু’জনেরই শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের বহরমপুরের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (Murshidabad Medical College) স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে লালবাগ থানার পুলিশ।

