উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আজ ১২ এপ্রিল, জাতীয় পথনাটক দিবস (National Street Theatre Day)। ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে যায় ১৯৮৯ সালের ১লা জানুয়ারিতে, যখন নাট্যকর্মী সফদর হাশমিকে (Safdar Hasmi) গান এবং নাটকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কথা বলার অপরাধে নৃশংসভাবে প্রাণ দিতে হয়েছিল। আজ তাঁর জন্মবার্ষিকীতে সারা দেশ স্মরণ করছে সেই আপসহীন শিল্পীকে।
সফদর হাশমি মানেই এক আইকনোক্লাস্টিক বা প্রচলিত প্রথা ভাঙার জেদ। তিনি শিখিয়েছিলেন, নাটক শুধু চারুকলার মঞ্চে সীমাবদ্ধ নয়, তা ছড়িয়ে পড়তে পারে রাস্তার মোড়ে, ধুলোবালি মাখা সাধারণ মানুষের ভিড়ে। দেশের নাট্যমহল আজও এই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে ম্লান হতে দেয়নি। প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন প্রান্তে রাজপথ আর ফুটপাথ মিশে গেছে নাটকের সংলাপে।


সফদর হাশমির মতোই বাংলা ও ভারতীয় পথনাটকের আরেক পথিকৃৎ বাদল সরকারের স্মৃতি অনেকের কাছেই অমলিন। সত্তর বছর বয়সে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য (Comparative Literature) নিয়ে পড়তে আসা বাদল সরকার ছিলেন এক বিস্ময়।
জনৈক প্রত্যক্ষদর্শীর স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে এক মজার তথ্য: “অধ্যাপকরা তাঁকে পড়াতে গিয়ে লজ্জিত হতেন। কারণ বাদল সরকারের নিজের লেখা বই-ই ছিল সেই ক্লাসের সিলেবাসের অংশ! তিনি স্রেফ হেসে বলতেন, শেখার কোনো বয়স নেই।”
তাঁর সেই শান্ত, সৌম্য, অনেকটা বুদ্ধের মতো চেহারার আড়ালে লুকিয়ে ছিল সমাজ বদলের এক তীব্র আগুন।
রাস্তার ধুলোয় দাঁড়িয়ে নাটক করা সহজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন অদম্য সাহস আর মানুষের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা। টেনেসী উইলিয়ামসের ‘স্ট্রিট কার নেমড ডিজায়ার’-এর মতো ক্ল্যাসিক নাটক মঞ্চস্থ করা যেমন কঠিন, খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে সামাজিক অসংগতির বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা তার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ।
জাতীয় পথনাটক দিবসের মূল বার্তা:
- সচেতনতা: বর্তমান প্রজন্মের প্রতি অনেকের নেতিবাচক ধারণা থাকলেও, আজকের তরুণ নাট্যকর্মীরা প্রমাণ করে দিচ্ছেন যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি তাঁদের টান আজও অটুট।
- প্রতিবাদ: সফদর হাশমি বা বাদল সরকার—সবারই লক্ষ্য ছিল অসাম্যের বিরুদ্ধে শিল্পের হাতিয়ারকে ব্যবহার করা।
- স্মরণ: আজকের দিনটি কেবল উদযাপনের নয়, বরং সেই সব বিপ্লবীদের সম্মান জানানোর যারা শিল্পের জন্য জীবন বিসর্জন দিয়েছেন।
মানুষ আজ আবারও শপথ নিচ্ছে—রাস্তা হারাবে না, নাটক মরবে না। সফদর হাশমি বেঁচে থাকবেন প্রতিটি প্রতিবাদী স্লোগানে।

