পান্ডবেশ্বর: দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের লাউদোহা স্কুল ময়দানে মঙ্গলবার সিপিএম প্রার্থী প্রবীর মন্ডলের সমর্থনে এক বিশাল জনসভা আয়োজিত হয়। এদিনের সভার মূল আকর্ষণ ছিলেন আইএসএফ প্রধান নওশাদ সিদ্দিকী (Naushad Siddiqui)। মঞ্চ থেকে তিনি তৃণমূল ও বিজেপিকে ‘একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ’ বলে কটাক্ষ করেন এবং রাজ্যে কর্মসংস্থান ও গৃহবধূদের ভাতার বিষয়ে বড়সড় প্রতিশ্রুতি দেন।
তৃণমূল ও বিজেপির পারস্পরিক আক্রমণকে বিঁধে নওশাদ বলেন, “তৃণমূল বলছে বিজেপিকে হঠাতে তাদের ভোট দিন, আবার বিজেপিও একই কথা বলছে। এটা যেন সেই প্যাকেটে লেখা থাকে— নকল হইতে সাবধান। আসলে তৃণমূল ও বিজেপি একে অপরের পরিপূরক।” তিনি অভিযোগ করেন, একটি দল রাজ্যের এবং অন্যটি দেশের অবস্থা শোচনীয় করে তুলেছে। মানুষের মধ্যে ধর্ম ও জাতি নিয়ে বিভাজন তৈরি করে এরা রাজনীতি করছে।


লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা অন্যান্য প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে নওশাদ এদিন আইএসএফ সমর্থিত বামফ্রন্ট সরকারের বিকল্প পথচিত্র তুলে ধরেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন:
- মাসে দেড় হাজার টাকা নয়, সরকার গড়লে প্রতিটি পরিবারের একজনের জন্য স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করা হবে।
- পরিবারের গৃহবধূদের জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকা ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।
- শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা কাটমানি বা সুপারিশে নয়, নিজের যোগ্যতায় সরকারি চাকরি পাবেন।
এলাকার মানুষের উদ্দেশ্যে নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, “আগামী পাঁচ বছর আপনারা কেমন থাকতে চান, সেটা ভেবেই ভোট দেবেন। নিজের ভোট নিজে দিন।” তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচাতে হলে তৃণমূল ও বিজেপি— এই দুই দলকেই ক্ষমতার বাইরে রাখা জরুরি।
এদিন প্রবীর মন্ডলের সমর্থনে নওশাদ সিদ্দিকীকে দেখতে লাউদোহা স্কুল ময়দানে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। নওশাদের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ এবং বিশাল আর্থিক প্রতিশ্রুতি পান্ডবেশ্বরের নির্বাচনী লড়াইকে আরও জমজমাট করে তুলল।

