রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (NBMCH) ডেঙ্গির থাবা। হস্টেলে থাকা এক ইন্টার্নের শরীরে মিলল ডেঙ্গির সংক্রমণ। কিন্তু সেই সংক্রান্ত তথ্য স্বাস্থ্য দপ্তর চাপা দিতে চাইছে বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, দার্জিলিং জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে আক্রান্তকে রিপোর্ট না দেওয়া এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের পোর্টালে তথ্য আপলোড না করতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসক মহলে তুমুল বিতর্ক।
প্রশ্ন উঠছে, মাত্র একটি রিপোর্ট লুকোনোর কী উদ্দেশ্য? তবে কি রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা কম দেখাতে এই পন্থা নেওয়া হচ্ছে? দার্জিলিংয়ের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ তুলসী প্রামাণিক অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।


দার্জিলিং জেলায় প্রতি বছর প্রচুর মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হন। এবারও শিলিগুড়ি শহরে বেশ কয়েকজন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। মহকুমার বিভিন্ন ব্লকে কমবেশি আক্রান্তের হদিস মিলেছে। অভিযোগ, রিপোর্ট চেপে দেওয়ার চেষ্টা চলছে কিছুক্ষেত্রে। সংক্রমণের সংখ্যা অত্যন্ত কম, তা বোঝানোর জন্য পরীক্ষায় রোগীর শরীরে ডেঙ্গি পজিটিভ ধরা পড়লেও সরকারি পোর্টালে তথ্য তোলা হচ্ছে না। অভিযোগ, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর থেকেই প্রতিটি হাসপাতালকে সতর্ক করা হয়েছে এব্যাপারে।
শুক্রবার উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এক ইন্টার্নের শরীরে ডেঙ্গির সংক্রমণ পাওয়া যায়। কয়েকজন পড়ুয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ওই ইন্টার্ন কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছেন। তাই তিনি রক্ত পরীক্ষা করেন। মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে তাঁর রক্ত পরীক্ষার পর রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপর থেকে নাকি তাঁকে রিপোর্ট দেওয়া নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে।
এতেই চটেছেন মেডিকেলের পড়ুয়া থেকে জুনিয়ার ডাক্তার ও সিনিয়ার চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল আগাছা-আবর্জনায় ছেয়েছে। যত্রতত্র চিকিৎসা বর্জ্য, রোগী সহ অন্যদের খাবারের অংশ ইত্যাদি জমে থাকছে। জন্মেছে পার্থেনিয়াম। সাপ সহ বিভিন্ন পোকামাকড় আর মশার উপদ্রব। বৃষ্টির জল জমে থাকে। বারবার বললেও সাফাই হয় না। এই পরিস্থিতিতে এবার সেখানে ডেঙ্গির থাবা।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, হস্টেলে আরও এমন অনেকেই হয়তো ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন বা হতে পারেন। মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডাঃ সঞ্জয় মল্লিকের দাবি, ‘ডেঙ্গিতে কোনও ইন্টার্নের আক্রান্ত হওয়ার খবর আমার জানা নেই। এব্যাপারে রিপোর্ট আসেনি।’

