শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি পুরনিগম এলাকায় অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীদের বক্তব্য, উন্নয়নের নামে রাস্তার ধারে থাকা একের পর এক দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হল। কিন্তু শহরের বড় বড় বিল্ডারদের অবৈধ নির্মাণে হাত দেওয়ার সাহস পাচ্ছেন না পুরনিগমের কর্তারা। সেবক রোড, স্টেশন ফিডার রোড, বর্ধমান রোডের পাশাপাশি বিভিন্ন পাড়ায় পাড়ায় বিল্ডারদের যেসমস্ত বড় বড় বিল্ডিং নির্মাণ হচ্ছে সেগুলিতে পুরনিগমের কোনও নজরদারি নেই বলেও তাঁরা অভিযোগ তুলেছেন। আর সে কারণেই বিল্ডিং প্ল্যানে যেখানে গ্যারাজ করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, সেই জায়গা দোকান হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে রাস্তার ধারে গাড়ি পার্কিং হচ্ছে। কোথাও তো আবার পার্কিংয়ের জায়গা বিভিন্ন সংস্থাকে ভাড়ায় দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
পুরনিগমের বিরোধী দলনেতা অমিত জৈন বলছেন, ‘প্রোমোটাররা পুরবোর্ড চালাচ্ছে। নির্বিচারে সাধারণ মানুষের দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিল্ডারদের অবৈধ নির্মাণে নজর নেই। সব স্বজনপোষণের খেলা।’ যদিও ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার এসমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ‘শুধু হাওয়া দিলে হবে না। প্রমাণ দিয়ে পুরনিগমে জানান। আইন সবার জন্য সমান।’ তিনি বলেন, ‘সব অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’
সম্প্রতি ডেঙ্গি পরিস্থিতি ও শহরের অবৈধ নির্মাণ নিয়ে ক্রেডাই সহ একাধিক বিল্ডারের সঙ্গে বৈঠক করেছে পুরনিগম। সেখানে বিল্ডিং প্ল্যান অনুযায়ী নির্মাণের পাশাপাশি বেশ কিছু নতুন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। কিন্তু বিষয়টি বৈঠকেই সীমিত থেকে গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অবৈধ নির্মাণের সবচেয়ে বেশি অভিযোগ রয়েছে ৪১ এবং ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে। পাশাপাশি ৫, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডেও এই ধরনের একাধিক অবৈধ নির্মাণ তৈরির অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে, অবৈধ নির্মাণের কথা ওয়ার্ড কাউন্সিলাররা জানলেও ব্যবস্থা নেওয়া তো দূর অস্ত, কোনওরকম উচ্চবাচ্য পর্যন্ত করছেন না তাঁরা।
স্টেশন ফিডার রোড, বর্ধমান রোড, প্রণামি মন্দির রোডেও একাধিক বিল্ডারের বিরুদ্ধে বিল্ডিং প্ল্যানের বাইরে অবৈধ নির্মাণ তৈরির অভিযোগ রয়েছে। কয়েক মাস আগে শিলিগুড়ি শহরে এধরনের ২০টির বেশি নির্মাণ চিহ্নিত করে নোটিশ পাঠিয়েছিল পুরনিগম। এর মধ্যে বর্ধমান রোডের একটি বিল্ডিংয়ে নোটিশ সাঁটিয়ে দিয়ে দ্রুত অবৈধ নির্মাণ ভেঙে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সূত্রের খবর, ওই বিল্ডিংয়ের ছাদে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু তারপর আদৌও তা সরানো হয়েছে কি না, সেবিষয়ে আর কোনও খোঁজ নেয়নি পুরনিগম।
বর্ধমান রোডেই এই ধরনের একাধিক বিল্ডিং রয়েছে, যেখানে প্ল্যানের বাইরে গিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রণামি মন্দির রোডেও একটি সংস্থার একাধিক বিল্ডিং তৈরি হয়েছে, যেখানে অবৈধ নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের দশরথপল্লি এবং ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভক্তিনগর এলাকায় দুই বাস্তুকারের অবৈধ নির্মাণে একাধিকবার নোটিশ দিলেও কোনও পদক্ষেপ করেনি পুরনিগম। সম্প্রতি ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডেও একটি অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে গিয়ে ফিরতে হয়েছে পুরনিগমকে। এর পিছনে কী কারণ রয়েছে? তাঁরা প্রভাবশালী বলেই কি ব্যবস্থা নিতে বারবার পিছপা হচ্ছে পুরনিগম? জল্পনা কিন্তু বাড়ছেই।

