উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মালদা-র মোথাবাড়িকাণ্ডে (NIA Report on Mothabari Incident) রাজ্য প্রশাসনের ওপর চাপ আরও বাড়ল। এই ঘটনায় এনআইএ (NIA) তাদের প্রাথমিক তদন্ত শেষ করে আজ, সোমবার সুপ্রিম কোর্টে ২৫ পাতার একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে চলেছে। এনআইএ-র আইজি সোনিয়া সিং ইতিমধ্যেই সেই রিপোর্ট নিয়ে দিল্লিতে পৌঁছেছেন। কেন্দ্রীয় এই রিপোর্টের নির্যাস নবান্নের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
গত বুধবার রাতে মোথাবাড়িতে ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে গিয়ে একদল উত্তেজিত জনতার রোষের মুখে পড়েন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা। তাঁদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টির অভিযোগ ওঠে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে। এই ঘটনার তদন্তভার যায় এনআইএ-র হাতে। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, এই ২৫ পাতার রিপোর্টে আক্রান্ত বিচারকদের বয়ানের পাশাপাশি মোথাবাড়ি অঞ্চলের ২২ জন বুথ লেভেল অফিসারের (BLO) জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে নথিভুক্ত করা হয়েছে। রিপোর্টে স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় আগেই নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। এজলাসে দাঁড়িয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, “যদি রাজ্যের বিচার বিভাগীয় অফিসাররাই নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।” প্রধান বিচারপতির এই পর্যবেক্ষণের পর রাজ্যের মুখ্য সচিব, ডিজি, ডিএম ও এসপি-কে শো’কজ করা হয়েছিল। আজ এনআইএ-র রিপোর্ট দেখার পর শীর্ষ আদালত কী পদক্ষেপ বা নির্দেশ দেয়, সেটাই এখন দেখার।
প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, রিপোর্টে যদি পুলিশের গাফিলতি বা নিষ্ক্রিয়তার প্রমাণ স্পষ্টভাবে উঠে আসে, তবে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে আদালত কড়া ব্যবস্থা নিতে পারে। এমনকি নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা আরও বাড়ানোর নির্দেশও আসতে পারে। সব মিলিয়ে মোথাবাড়ির ছায়া এখন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ময়দানেও দীর্ঘ হতে শুরু করেছে। একদিকে এনআইএ-র তদন্তের গতি, অন্যদিকে প্রধান বিচারপতির কড়া পর্যবেক্ষণ—দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রে।

