উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে আবারও ফিরে এল নিপা ভাইরাসের (Nipah Virus) আতঙ্ক। বারাসতে দুই ব্যক্তির শরীরে এই মারণ জীবাণুর উপস্থিতি মেলায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে রাজ্য সরকার।
নিপা ভাইরাস কী ও কীভাবে ছড়ায়?
এটি একটি ‘জুনোটিক’ ভাইরাস, যা মূলত প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। বিশেষ করে বাদুড় বা শূকরের শরীর থেকে এই ভাইরাস সরাসরি মানুষের দেহে প্রবেশ করতে পারে। এছাড়া বাদুড়ের লালা বা বিষ্ঠা লেগে থাকা ফল খেলে কিংবা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
উপসর্গ ও বিপদ:
নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে ধুম জ্বর, প্রবল মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বমি ভাব এবং পেশিতে ব্যথা দেখা দেয়। পরিস্থিতি জটিল হলে রোগী অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করেন, স্মৃতিশক্তি লোপ পায় এবং মৃগীর মতো খিঁচুনি দেখা দেয়। চিকিৎসার পরিভাষায় একে ‘এনসেফেলাইটিস’ বলা হয়, যা রোগীকে দ্রুত কোমায় পাঠিয়ে দিতে পারে। পরিসংখ্যান বলছে, এই রোগে মৃত্যুর হার অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
প্রতিকার ও সতর্কতা:
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, নিপা ভাইরাসের কোনও নির্দিষ্ট ওষুধ বা প্রতিষেধক নেই। উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসাই একমাত্র ভরসা। তাই সতর্কতা অবলম্বন করাই জীবন বাঁচানোর সেরা উপায়। এই ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে-
১. পাখিতে ঠোকরানো বা কাটা ফল খাবেন না।
২. শূকর বা বাদুড়ের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
৩. খোলা জায়গায় রাখা খেজুর বা তালের রস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৪. আক্রান্ত রোগীর সেবা করার সময় বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করুন।
পশ্চিমবঙ্গে নিপার ইতিহাস বেশ ভয়াবহ। ২০০১ সালে শিলিগুড়িতে এবং ২০০৭ সালে নদীয়ায় এই ভাইরাসের দাপটে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশিকা মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

