ডালখোলা: বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) মুখে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। বৃহস্পতিবার চাকুলিয়া বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী মনোজ জৈনের সমর্থনে মতুয়াগড় অসুরাগড়ে এক জনসভায় যোগ দিয়ে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা নীতিন নবীন (Nitin Nabin)। অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি এবং ‘জঙ্গল রাজ’—এই তিন ইস্যুকে হাতিয়ার করে শাসকদলকে বিঁধলেও, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের (Shantanu Thakur) অনুপস্থিতি সভার তাল কিছুটা ভঙ্গ করেছে।
অনুপ্রবেশ ও জাতীয় নিরাপত্তা:
এদিনের মঞ্চ থেকে নীতিন নবীন সরাসরি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশে পরিণত করার একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের এই ভূমিতে থাকার কোনো অধিকার নেই। কিন্তু তৃণমূল সরকার ভোটব্যাংকের লোভে তাদের সুরক্ষা দিচ্ছে।” রাজ্যের জনবিন্যাসের এই পরিবর্তন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলেও তিনি দাবি করেন।
দুর্নীতি ও জঙ্গল রাজের অবসান:
শাসকদলকে বিঁধে নবীন আরও বলেন, তৃণমূল সুশাসনের স্বপ্ন দেখিয়ে দুর্নীতির কারখানা খুলে বসেছে। রাজ্যে কলকারখানা বন্ধ হলেও বেড়েছে ‘জঙ্গল রাজ’। উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের উদাহরণ টেনে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সমস্ত দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে এবং বাংলা থেকে জঙ্গলরাজ দূর করা হবে।
মতুয়া অসন্তোষ ও কৌশলী নীরবতা:
তবে এদিনের সভার মূল আকর্ষণ হওয়ার কথা ছিল মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের অনুপস্থিতি স্থানীয় মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। মতুয়া গোবিন্দ সরকারের কথায়, “আমরা ধর্মের টানে এসেছিলাম, কিন্তু রাজনীতির বেড়াজালে আমাদের নাগরিকত্বই আজ প্রশ্নের মুখে। নেতারা যদি আমাদের সমস্যা নিয়ে কথা না বলেন, তবে জনসভা করে কী লাভ?”
রাজনৈতিক সমীকরণ:
চাকুলিয়া মন্ডল সভাপতি প্রণব মজুমদার শান্তনু ঠাকুরের অনুপস্থিতিকে বিশেষ কারণ বলে দাবি করলেও, রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক পাল এই নিয়ে নীরবতা বজায় রেখেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক মুখে মতুয়াদের এই অসন্তোষ বিজেপির ভোটবাক্সে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। নীতিন নবীনের ঝাঁঝালো ভাষণ উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণকে উত্তপ্ত করলেও, মতুয়া ক্ষোভ প্রশমন করাই এখন বিজেপির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

