নাগরাকাটা: লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ডুয়ার্সের চা বলয়ে এসে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা নীতিন নবীন (Nitin Nabin)। বুধবার নাগরাকাটা ও মালবাজার বিধানসভার যৌথ কর্মীসভায় তিনি দাবি করেন, গত কয়েক বছরে উত্তরবঙ্গের চা বাগানগুলি থেকে প্রায় ৪ লক্ষ শ্রমিক রুটি-রুজির সন্ধানে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন (Tea Garden Workers )। এই ‘পলায়ন’ এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর জন্য বিরাট ক্ষতি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নীতিন নবীনের অভিযোগ, দেশের অন্যান্য প্রান্তে চা শ্রমিকরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পেলেও পশ্চিমবঙ্গে তা মাত্র ২৫০ টাকার আশেপাশে থমকে আছে। তাঁর কথায়, “মাদ্রাসা-মসজিদ তৈরি বা অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসীম মমতা থাকলেও, চা শ্রমিকদের প্রতি তাঁর আচরণ বিমাতৃসুলভ।” তিনি আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রোতসাহন যোজনা অসম সরকার কার্যকর করে সুফল পেলেও, পশ্চিমবঙ্গ সরকার তা আটকে রেখেছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের মাধ্যমে এই প্রকল্প চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
দার্জিলিংয়ের বিশ্ববিখ্যাত চা শিল্পের অবনতি নিয়েও পরিসংখ্যান তুলে ধরেন নীতিন। তিনি জানান, ২০২৪ সালে দার্জিলিং চায়ের উৎপাদন কমে ৫.৬ মিলিয়ন কিলোগ্রামে দাঁড়িয়েছে, যা ১৭১ বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। এই পরিস্থিতির জন্য তৃণমূল সরকারের ভুল নীতিকেই দায়ী করেছেন তিনি।
বিজেপির এই অভিযোগকে ‘মিথ্যের বেসাতি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি মহুয়া গোপ। তিনি বলেন, “নীতিন নবীনরা ভোটের আগে পরিযায়ী পাখির মতো আসেন। এতদিন কোথায় ছিলেন তাঁরা? চা বাগানের মানুষের জন্য যদি কেউ সত্যিকারের কাজ করে থাকেন, তবে তিনি একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যুতে বিজেপির দাবি বিভ্রান্তিকর বলে তিনি দাবি করেন।
এদিনের সভায় নাগরাকাটা ও মালবাজারের দুই বিজেপি প্রার্থী পুনা ভেংরা ও শুক্রা মুন্ডা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাংসদ মনোজ টিগ্গা, ডাঃ জয়ন্ত রায় এবং বাপী গোস্বামী সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারা। ডুয়ার্সের চা বলয়ে আদিবাসী ও শ্রমিক ভোটব্যাঙ্ক দখলে দুই শিবিরের এই বাকযুদ্ধ এখন তুঙ্গে।

