রাহুল দেব, রায়গঞ্জ: ‘দুর্নীতি করলে কাউকে রেয়াত করা হবে না।’ শুক্রবার জেলা সদরে এসে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি অডিট রিপোর্ট প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য করলেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। গতবছর ৯ সেপ্টেম্বর রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করে সাংবিধানিক সংস্থা কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)-এর দপ্তর। কয়েক কোটি টাকা গরমিল দেখা যায় ক্যাগ-এর সেই রিপোর্টে। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে ব্রাত্য বলেন, ‘নতুন ও স্থায়ী উপাচার্য এসে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন। এর বিচার হবে। যদি সত্যি কোনও আর্থিক গরমিল পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে বিচার হবে। নতুন উপাচার্যের কাছে সঠিক অডিটের নির্দেশ দেওয়া হবে।’
রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সময়ে আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগ ওঠে সেই সময় উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ডঃ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পিএইচডি গাইড বা গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক অনিল ভুঁইমালি। এদিকে ব্রাত্যর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলো। এবিভিপির রাজ্য সম্পাদক (উত্তরবঙ্গ) দীপ দত্তের কথায়, ‘রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি চলেছে। একমাত্র আমরাই পথে নেমে, এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী এই বিষয়ে যদি সদর্থক ভূমিকা নেন, তাহলে তা প্রশংসাযোগ্য হবে।’ এসএফআই-এর জেলা সম্পাদক কুষাণ ভৌমিক বলেন, ‘রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুতর দুর্নীতি হয়েছে। রাজ্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি। আশা করি, শিক্ষামন্ত্রী এবার নিশ্চয়ই কোনও ব্যবস্থা নেবেন।’
অন্যদিকে, সওয়া দু’বছরের বেশি সময় ধরে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজ্যপাল মনোনীত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দীপককুমার রায়। নতুন ও স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের বিষয়ে এদিন আশ্বাস দেন ব্রাত্য। তাঁর কথায়, ‘আগামী ১৯ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টে এই বিষয়ে ফয়সালা হওয়ার কথা। তারপরই রাজ্যের যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থায়ী উপাচার্য রয়েছেন সেখানে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ করা হবে।’

