শীতলকুচির বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা গ্রাম থেকে বৈষ্ণবনগরের গঙ্গার পার, গত কয়েকদিনে ১৫০০ কিলোমিটারের বেশি পথ ঘুরে মানুষের মন বোঝার চেষ্টা করেছে উত্তরবঙ্গ সংবাদ। নিখুঁত ফল কী হতে পারে তা বলা সম্ভব না হলেও হাওয়া কোনদিকে, রইল সেই আভাস।
দীপ সাহা ও শুভঙ্কর চক্রবর্তী


-কছিল, একখান ঘর দিবে। পনচ্যায়েতের ভোটে জিতি আর দ্যাখা নাই কারও। ন্যাতাগুলার খালি ডায়লগই আছে।
ইসলামপুরের দাড়িভিট হাইস্কুলের পাশে বাড়ির উঠোনে বসে আলু থেকে মাটি ছাড়াতে ছাড়াতেই ক্ষোভ উগরে দেন মহিলা। ভোট দেবেন না? প্রশ্ন ছুড়তেই পালটা জানতে চান, ‘এইটা কি ম্যাম্বার ভোট না সরকারি ভোট?’ বুঝতে পারলাম পঞ্চায়েত ভোট না বিধানসভা ভোট, সেটা জানতে চাইছেন। উত্তরে জানালাম, সরকারি ভোট।
-‘হ, তাইলে তো এবার দিবার লাগবই। নাইলে আবার নাম কাইটা দ্যায় কি না! কিন্তু উগারে আর দেওয়া যাইব না।’
মহিলা একেবারেই ছাপোষা গৃহবধূ। লেখাপড়াও করেননি বেশিদূর। বাড়ি থেকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে অল্প বয়সেই। কোনটা কী ভোট, কে বিধায়ক, কে সাংসদ- তা জানেন না। জানতেও হয়তো চান না। বড়জোর চেনেন এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য কিংবা প্রধানকে। ওঁরাই মাইবাপ। চাওয়াপাওয়া, অভাব-অভিযোগ সব ওঁদের ঘিরেই। আর সেসব বিবেচনা করেই ভোটটা দেন সিম্বল বুঝে।
দাড়িভিটের এই প্রান্তিক মহিলাই আসলে গোটা বাংলার আয়না। শুধু দাড়িভিট কেন, বাংলার পথেপ্রান্তরে লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি এমন মানুষ ছড়িয়ে রয়েছেন যাঁদের সরকারের থেকে খুব বেশি কিছু পাওয়ার নেই। খুব বেশি হলে একটা সরকারি ঘর, পায়খানা কিংবা একটা রাস্তা। সরকারি চাকরি, কর্মসংস্থান এসব নিয়ে ওঁদের কোনও মাথাব্যথা নেই। যেমন নেই চাকরি দুর্নীতি, র্যাশন দুর্নীতি, কলকাতার নেতাদের কেচ্ছাকীর্তি ইত্যাদি নিয়ে। বাংলার ভোটে এঁরাই আসলে নির্ণায়ক শক্তি।
রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আছে ১৫ বছর হয়ে গেল। অধিকাংশ গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ, পুরসভাও তৃণমূলের দখলে। কিন্তু কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ থেকে শুরু করে মালদার বৈষ্ণবনগর পর্যন্ত জনতার দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বোঝা গেল, অধিকাংশ জায়গাতেই ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছে। কোথাও নেতার ক্ষমতার দম্ভে, কোথাও অপ্রাপ্তির নিরিখে। তার মধ্যে একটা বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে, এসআইআর-এ নাম কাটা পড়লেও নেতাদের পাশে না পাওয়া।
সব হিসেবনিকেশ করে তৃণমূল বিরোধী এই ক্ষোভে হাওয়া দিতে শুরু করেছে বিজেপি। সঙ্গে আছে হিন্দুত্ববাদের জিগির। একুশের হারের পর থেকে আরএসএস যেভাবে উত্তরবঙ্গজুড়ে গোপনে ভোটের বীজ বুনেছে, তা টের পাননি তৃণমূলের নেতারা। ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক তো দূরেই থাক। এসি ঘরে বসে সাধারণ ভোটারদের ফোন করে করে ‘কোথায় ভোট দেবেন’ জানতে চাওয়া কর্মীরা মনগড়া হিসেব করে রিপোর্ট দিয়েছেন কলকাতায়। বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে যা বোঝা উচিত ছিল তৃণমূল নেতাদের, তাতে পুরোপুরি ব্যর্থ ঘাসফুল শিবির। আর সেই ফায়দাটাই নিতে চাইছে বিজেপি। ফলে এবারের ভোটে নিজেদের জেতা আসনও হারাতে হতে পারে তৃণমূলকে। সেখানে শক্তি বাড়াবে বিজেপি। ফাঁকতালে কংগ্রেসও দু-চারটি আসন পেয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
কোচবিহার দিয়েই শুরু করা যাক। বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এই জেলায় এই মুহূর্তে তৃণমূলের দখলে রয়েছে তিনটি আসন, বিজেপির ছয়টি। মেখলিগঞ্জের বিদায়ি বিধায়ক পরেশচন্দ্র অধিকারীর নাম শিক্ষা দুর্নীতিতে জড়ালেও স্থানীয় স্তরে তার খুব বেশি প্রভাব নেই। এই আসনটিতে এগিয়ে তিনিই। মাথাভাঙ্গায় এবার বিজেপির হয়ে লড়ছেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। অধ্যাপক সাবলু বর্মনের তাঁর সঙ্গে পেরে ওঠা কঠিন। ফলে অঙ্কের হিসেবে এগিয়ে নিশীথই। কোচবিহার উত্তর গতবার বিজেপির দখলে ছিল। এবারও সেটাই থাকার সম্ভাবনা প্রবল। কোচবিহার দক্ষিণে ঘরোয়া ক্ষোভ রয়েছে বিজেপির প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বসুকে নিয়ে। গতবার এখানে বিজেপির জয়ের ব্যবধানও ছিল সামান্য। পদ্মের ক্ষোভ ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হলে তৃণমূলের অভিজিৎ দে ভৌমিক এগিয়ে থাকবেন। শীতলকুচিতে গতবারের মতো এবারও পদ্ম ফোটার সমূহ সম্ভাবনা। এসআইআর-এ প্রচুর মুসলিম ভোটারের নাম বাদ পড়ায় চাপে রয়েছে তৃণমূল। জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার গড় সিতাই নিয়ে এবার আর স্বস্তিতে নেই ঘাসফুল শিবির। বিজেপি এখানে ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে। দিনহাটায় বিজেপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে অসন্তোষের আবহে উদয়ন গুহই এগিয়ে থাকছেন। নাটাবাড়িতে বিদায়ি বিজেপি বিধায়ক মিহির গোস্বামীকে নিয়ে ক্ষোভ প্রচুর। তা সত্ত্বেও বিজেপির গিরিজাশংকর রায় এগিয়ে থাকছেন। তুফানগঞ্জে বিজেপির পিচে বাজিমাত করতে তৃণমূল প্রার্থী করেছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন বোলার শিবশংকর পালকে। কিন্তু রাজনীতির পিচে প্রতিপক্ষকে বোল্ড করা তাঁর পক্ষে একটু কঠিনই।
ঠিক পাশের জেলা আলিপুরদুয়ারের হিসেব অবশ্য এত জটিল নয়। চা বাগান অধ্যুষিত কয়েকটি বিধানসভায় নিঃশব্দে ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছে আরএসএস। একসময়ের লালদুর্গে এখন শুধুই ‘রামরাজত্ব’। একুশের ভোটে জেলার পাঁচটি বিধানসভা আসনের পাঁচটিতেই জয় পেয়েছিল বিজেপি। পরে আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল তৃণমূলে যোগ দেন। ২০২৪ সালে মাদারিহাটে উপনির্বাচন হওয়ায় সেটিও ঘাসফুলের দখলে আসে।
এবার আলিপুরদুয়ার আসনে সুমন লড়লেও গোষ্ঠীকাঁটায় জর্জরিত হওয়ায় তাঁর জয় বড়ই কঠিন। মাদারিহাট আসনটিও ধরে রাখা সহজ নয় তৃণমূলের কাছে। ফলে জেলার পাঁচটি আসনেই পদ্ম ফুটতে পারে।
তুলনামূলকভাবে জলপাইগুড়ি জেলায় সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে তৃণমূল। ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রিক এই জেলায় তৃণমূল-বিজেপির আসন যথাক্রমে ৪ ও ৩। ধূপগুড়িতে উপনির্বাচনে জয় পেয়েছিল তৃণমূল। এখানে পদ্ম প্রার্থীর বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তৃণমূলের বিদায়ি বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায় এগিয়ে থাকছেন। ময়নাগুড়ি আসনটিতেও প্রার্থী বাছাই নিয়ে পদ্মের চূড়ান্ত নাটকের জেরে হাওয়া লাগতে পারে ঘাসফুলের বাগানে। জলপাইগুড়ি আসনটিতে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি। দলের অন্তর্কলহ খুব বেশি প্রভাব না ফেললে তৃণমূলের প্রার্থী কৃষ্ণ দাস বাঁশিতে সুর তুলতে পারেন ৪ মে। রাজগঞ্জেও অঙ্কটা একই। তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্নার জয়-পরাজয় নির্ভর করছে খগেশ্বরের নিজস্ব কিছু ভোটব্যাংকের ওপর। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে পদ্মের বিদায়ি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে ক্ষোভ প্রচুর। ‘মা-ছেলের’ ব্যক্তিগত রসায়নের ওপর নির্ভর করে প্রথমদিকে শিখার প্রচার নিষ্প্রভ হলেও শেষ দিকে জ্বলে উঠেছেন। ফলে তৃণমূলের প্রার্থী রঞ্জন শীলশর্মার সঙ্গে তাঁর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। মাল বিধানসভা থেকে জিতে গতবার মন্ত্রী হয়েছিলেন বুলু চিকবড়াইক। তিনি এবারও আসনটি নিজের দখলে রাখতে পারেন। নাগরাকাটায় অবশ্য এগিয়ে থাকছেন বিজেপির বিদায়ি বিধায়ক পুনা ভেংরাই।
গোটা উত্তরবঙ্গের চর্চিত আসনগুলির মধ্যে অন্যতম শিলিগুড়ি। দুই হেভিওয়েটের লড়াই এখানে। একদিকে বিধানসভায় বিজেপির মুখ্য সচেতক শংকর ঘোষ অন্যদিকে, দু’বারের মন্ত্রী, বর্তমান মেয়র গৌতম দেব। ভোটের অঙ্কে এগিয়ে থাকছেন শংকরই। গৌতমকে বাজিমাত করতে হলে হিসেব মেলাতে হবে প্রচুর। শিলিগুড়ি মহকুমার অন্য দুটি আসন মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি ও ফাঁসিদেওয়াতেও গেরুয়া শিবিরই এগিয়ে থাকছে। একুশেও এই আসন দুটি বিজেপির দখলেই ছিল।
গোর্খ্যাল্যান্ড আবেগে ভর করে পাহাড়ের তিনটির মধ্যে দুটি আসনেই পদ্ম ফুটেছিল গতবার। স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বিজেপিও এবার আর স্বপ্ন দেখাচ্ছে না। তাই একক আধিপত্য ভেঙে অন্য পথে হাঁটতে চাইছে পাহাড়। দার্জিলিং আসনটিতে এগিয়ে থাকছে বিজেপি। কার্সিয়াংয়ে অনীতের দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা অনেকটাই সুবিধাজনক জায়গায়। কালিম্পংয়ে অবশ্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াই প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা ও বিজেপির।
পাহাড়ের পাকদণ্ডি বেয়ে সমতলে নেমে যতই দক্ষিণমুখী হওয়া যায়, ততই রাজনৈতিক অঙ্ক আরও জটিল হতে থাকে। উত্তরের এই অংশে লড়াই মূলত দ্বিমুখী হলেও দুই দিনাজপুর ও মালদায় তা ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী।
উত্তর দিনাজপুর উত্তরের এমন একটি জেলা, যেখানে তৃণমূলের আসন সবচাইতে বেশি। ৯টির মধ্যে এখানে সাতটিতেই গতবার জয় পেয়েছিল তৃণমূল, দুটিতে বিজেপি। পরে রায়গঞ্জের বিজেপি বিধায়ক চলে আসেন তৃণমূলে। ফলে এই জেলায় এখন তৃণমূলের আট বিধায়ক। এবারে অবশ্য ঘাসফুলের বাগান তছনছ হওয়ার আভাস ধর্মের কালবৈশাখীতে। চোপড়া, গোয়ালপোখর, হেমতাবাদ আসনে তৃণমূল খানিক এগিয়ে থাকলেও শঙ্কা রয়েছে ইসলামপুর, চাকুলিয়া, করণদিঘি, রায়গঞ্জ ও ইটাহার নিয়ে। ইসলামপুরে করিম-কাঁটায় কানাইয়ালাল আগরওয়ালের জয় পাওয়া খুব শক্ত। চাকুলিয়ায় কংগ্রেস এবার অনেকটাই শক্তিশালী। তৃণমূলের ভোট কাটতে পারলে আলি ইমরান রমজ (ভিক্টর)-এর ‘ভিক্ট্রি’ সময়ের অপেক্ষা। করণদিঘিতে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠছেন সিপিএমের হাজি সাহাবুদ্দিন। ভোট কাটাকাটির অঙ্কে এখানে তৃণমূল, বিজেপি বা সিপিএম যে কেউ শেষ হাসি হাসতে পারে। রায়গঞ্জের বিজেপি ত্যাগী কেকে অর্থাৎ কৃষ্ণ কল্যাণীকে নিয়ে ক্ষোভ অনেক। এবার তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণের পথ খুব মসৃণ নয়।
দক্ষিণ দিনাজপুরের ছ’টির মধ্যে তিনটি তৃণমূলের দখলে ছিল, বাকি তিনটি বিজেপির। এখানেও তৃণমূলের আসন কমার পূর্বাভাস। একেবারে তৃণমূল স্তরে চরম অসন্তোষ, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ঘাসফুলের ভোটব্যাংকে বড় ফাটল। কুশমণ্ডিতে যেমন তৃণমূল ও বিজেপির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। হরিরামপুরেও মন্ত্রী বিপ্লব মিত্রের গদি টলমল করছে। বামের ভোট রামে গেলে এখানে শেষ হাসি হাসবে বিজেপিই। গঙ্গারামপুরেও আরএসএসের গড়ে দেওয়া ভিতে প্রাণচঞ্চল বিজেপি। তপনে বিজেপি-তৃণমূল উভয়ই চেষ্টার কসুর করছে না। ফলে লড়াই এখানে হাড্ডাহাড্ডি। কুমারগঞ্জে সংখ্যালঘু ভোট প্রচুর। কিন্তু রয়েছে শাসক বিরোধী হাওয়া। ফলে তোরাফ হোসেন মণ্ডল আসনটি ধরে রাখতে পারবেন কি না, সংশয় রয়েছে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের নিজের এলাকা বালুরঘাটে শাসকদল ও বিজেপি- উভয়ই ঘরোয়া কোন্দলে জর্জরিত। তবে হিন্দুত্বে ভর করে এগিয়ে থাকছে বিজেপিই।
উত্তরের জেলাগুলিতে সবথেকে বেশি আসন মালদায়। ১২টি। তারমধ্যে আটটিই তৃণমূলের দখলে ছিল। বাকি চারটি বিজেপির। ঘাসফুলের সাজানো বাগান এখানেও তছনছ হতে পারে। আদিবাসী অধ্যুষিত গাজোল বিজেপির দখলে ছিল। এবার সেখানে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি। পাশের হবিবপুরে বিজেপি ছিল। এবারও পদ্মের আসনটি ধরে রাখতে পারেন জয়েল মুর্মু। চাঁচলে বড় ফ্যাক্টর কংগ্রেসত্যাগী নির্দল আনজারুল হক জনি। তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় জিতবেন নাকি বিজেপির রতন দাস, তা ঠিক করবেন জনিই। হরিশ্চন্দ্রপুরে মন্ত্রী তজমুল হোসেন এবার প্রার্থী হতে পারেননি। তাঁর ‘খেলা’র ওপর নির্ভর করছে তৃণমূলের প্রার্থী মতিবুর রহমানের ভাগ্য।
পাশেই মালতীপুর নিয়ে চর্চার শেষ নেই মালদাজুড়ে। ক্ষমতাবান তৃণমূল নেতা আব্দুর রহিম বক্সীর গড়ে এবার তাঁর প্রতিপক্ষ সদ্য তৃণমূলত্যাগী কংগ্রেস প্রার্থী মৌসম বেনজির নুর। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মৌসমের হাত ধরতে মরিয়া সংখ্যালঘুরা। রহিম বক্সীর ভোট কাটলে মৌসমের ভাগ্য প্রসন্ন হতে পারে এবার। রতুয়ায় গতবার বিপুল ভোটে জিতেছিল তৃণমূল। কিন্তু ‘বুড়ো’ প্রার্থী সমর মুখার্জিকে নাপসন্দ দলেরই অনেকের। মুসলিম সমাজও মুখ ফেরাচ্ছে। ফলে অঙ্ক কঠিন হচ্ছে এখানে।
মানিকচকে ধর্মীয় মেরুকরণ চূড়ান্ত। গতবার তৃণমূলের সাবিত্রী মিত্র জিতলেও এবার আসনটি তৃণমূলের দখলে থাকবে কি না, সংশয় রয়েছে। বাম-ফ্যাক্টর হওয়ায় লড়াই মূলত বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে। মালদা ও ইংরেজবাজার দুটি শহর ঘেঁষা আসনে এবারও রামরাজত্বের আভাস।
মোথাবাড়ি আসনটিতে গতবার জয় পেয়েছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন। গঙ্গা এখানে গিলছে বাড়ির পর বাড়ি। ক্ষোভ আঁচ করে সাবিনা চলে গিয়েছেন পাশের সুজাপুরে। মোথাবাড়িতে এবার কংগ্রেসের পালে হাওয়া। সাবিনা বীজগণিত বুঝেই প্রার্থী হয়েছেন সুজাপুরে। এসআইআর নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও শেষ হাসি হাসতে পারেন তিনি।
রইল বাকি বৈষ্ণবনগর। নামে হিন্দুত্বের ছোঁয়া থাকলেও এখানে হিন্দু-মুসলিম উভয়েরই বাস। তৃণমূলের এই আসনে ভোট কাটাকাটির হিসেব করে ফেলেছে কংগ্রেস। আর এই অঙ্ক মিলে গেলে আসনটি পেয়ে যেতে পারে বিজেপি।
দক্ষিণের তুলনায় উত্তরবঙ্গে শাসকের শক্তি বরাবরই কম। এবার শক্তিক্ষয়েরই আভাস তোর্ষা থেকে শুরু করে গঙ্গাপারে।

