উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ পাকিস্তানের প্রথম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান (সিডিএফ) হিসেবে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে নিয়োগে আপত্তি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর এড়াতেই প্রধানমন্ত্রী চলে গিয়েছেন দেশের বাইরে। সূত্রের খবর, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বাহারিন এবং লন্ডন সফরে চলে গিয়েছেন। যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা শরিফ পালিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানে শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব নিয়ে গভীর সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট তৈরি হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বোর্ডের (এনএসএবি) প্রাক্তন সদস্য তিলক দেবেশ সংবাদ মাধ্যমে বলেন, ‘খুব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বাহরিনে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে সোজা লন্ডনে চলে গিয়েছেন। তিনি চাননা, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করতে। যার ফলে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হিসেবে আসিম মুনিরকে পাঁচ বছরের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং সিডিএফ হিসাবে নিয়োগের বিষয়ে।’
দেবেশ আরও বলেন, ‘যদি ধরে নেওয়া হয় যে আসিম মুনিরের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তবে পাকিস্তানে এই মুহূর্তে কোনও সেনাপ্রধান নেই। শুধু তাই নয়, নিউক্লিয়ার কমান্ড অথরিটি, যাকে নতুন ‘স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ড’-এর অধীনে রাখার কথা ছিল, সেটিও ঝুলে রয়েছে। যা পাকিস্তানের জন্য খুবই অদ্ভুত ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি। পাকিস্তানের সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ী, সেনাপ্রধানের মেয়াদ সিডিএফের মেয়াদের সমান অর্থাৎ পাঁচ বছরের সমান বলে মনে করা হয়।’
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের সংশোধনী অনুসারে, সেনাপ্রধানের মেয়াদ পাঁচ বছর। এক্ষেত্রে আসিম মুনিরের সবেমাত্র তিন বছর পূর্ণ হয়েছে, তাই তাঁর মেয়াদ বাকি আছে দু’বছর। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে বিজ্ঞপ্তির প্রয়োজন হবে না। তবে এটি একটি অত্যন্ত বিতর্কিত বিষয় এবং আদালত ও সরকার এটিকে কীভাবে দেখে, তা এখনও দেখার বিষয়।

