উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পহেলগাঁও হামলার (Pahalgam Attack) বর্ষপূর্তির আর ১৭ দিন বাকি। গোটা দেশ যখন কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা, ঠিক তখনই জঙ্গি দমনে বড়সড়ো সাফল্য পেল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এবং মহারাষ্ট্র এটিএস (ATS)। রবিবার মুম্বই এবং থানেতে যৌথ অভিযান চালিয়ে ‘ওডিশা মডিউলের’ (Odisha Module) দুই সন্দেহভাজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছেন গোয়েন্দারা। ধৃতদের নাম মোসাব আহমেদ ওরফে কালাম এবং মোহাম্মদ হামাদ কালরা।
যৌথ অভিযানে সাফল্য


গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গত দু’দিন ধরে ওই দুই সন্দেহভাজনের ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছিলেন দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের (Delhi Police Special Cell) কর্তারা। রবিবার থানের খাড়াবলি থেকে মোসাব আহমেদ এবং মুম্বইয়ের কুর্লা থেকে মোহাম্মদ হামাদ কালরাকে ধরা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে একাধিক মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং বেশকিছু আপত্তিকর নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
কী এই ‘ওডিশা মডিউল’?
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই পুরো চক্রটি ওডিশা থেকে পরিচালিত হচ্ছিল। ধৃতরা মূলত ‘অনলাইন জেহাদি’ হিসেবে কাজ করত। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে দেশের যুবকদের উগ্রপন্থী মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ করাই ছিল এদের প্রধান লক্ষ্য। গোয়েন্দা কর্তাদের মতে, এদের সঙ্গে বিদেশি হ্যান্ডলারদের, বিশেষ করে JeM অর্থাৎ, জৈশ-ই-মহম্মদের হ্যান্ডলারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এমনকি, ইসলামিক স্টেট অর্থাৎ ISIS-এর সঙ্গেও এরা সরাসরি যুক্ত বলে দাবি গোয়েন্দাদের। বিদেশি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে এরা ভারতে আইসিসের হয়ে ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর কাজ চালাচ্ছিল।
বিস্তৃত জাল ও গ্রেপ্তার
তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃতদের সঙ্গে গত শনিবার উত্তরপ্রদেশের কুশিনগর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া রিজওয়ান আহমেদের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিজওয়ান ২০১৫ সাল থেকে আইসিসের হয়ে কাজ করছিল বলে অভিযোগ। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ইতিমধ্য়েই অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা রুজু করে ধৃতদের হেপাজতে নিয়েছে।
অন্যদিকে, রবিবার রাত পর্যন্ত মুম্বইয়ের গোভান্দি ও কুর্লায় আরও তিনটি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে এটিএসের বিভিন্ন ইউনিট। পহেলগাঁও হামলার বর্ষপূর্তির মুখে এই গ্রেপ্তারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

