উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড়ো স্বস্তির খবর। আমেরিকা ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে (US-Iran Ceasefire) রাজি হতেই আন্তর্জাতিক বাজারে হুহু করে নামল অপরিশোধিত তেলের দাম (Oil Prices Drop)। ব্রেন্ট ক্রুডের (Brent Crude price) দাম ব্যারেল প্রতি ১০৯.৭৭ ডলার থেকে এক ধাক্কায় কমে দাঁড়িয়েছে ৯৫.০৬৮ ডলারে। একইভাবে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দামও ব্যারেল প্রতি প্রায় ২০ ডলার হ্রাস পেয়েছে।
এই যুদ্ধবিরতির মূল শর্ত হল ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় খুলে দেওয়া (Strait of Hormuz)। বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়েই পরিবহণ করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর তেহরান এই পথটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিল। এর ফলে তেলের জোগান নিয়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং মার্চ মাসে তেলের দাম রেকর্ড ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। বিমা খরচ বৃদ্ধি ও সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছিল।
ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিশ্ববাজারে তার প্রতিফলন দেখা যায়। তেলের দাম কমার পাশাপাশি বন্ডের দাম বেড়েছে এবং মার্কিন শেয়ার বাজারে বড় উত্থান লক্ষ করা গেছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, দীর্ঘ উত্তেজনার পর এবার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পথে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তি বর্তমানে ‘প্রক্রিয়াধীন’ রয়েছে। ইরানের দেওয়া একটি ১০ দফার প্রস্তাব ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। পালটা তেহরান জানিয়েছে, হামলা বন্ধ থাকলে অন্তত আগামী দুই সপ্তাহ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই স্বস্তি সাময়িক হতে পারে। কারণ এই যুদ্ধবিরতি মাত্র দুই সপ্তাহের জন্য। যদি আলোচনার মাধ্যমে কোনো স্থায়ী সমাধান না আসে, তবে বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠতে পারে। আপাতত মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে আমদানিকারক দেশগুলি।

