সিদ্ধার্থশংকর সরকার, পুরাতন মালদা: পুরাতন মালদা (Old Malda) পুরসভার চেয়ারম্যান কার্তিক ঘোষের পদত্যাগের পর প্রায় ৮ দিন কেটে গিয়েছে। মঙ্গলবার অবধি নতুন চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করা হয়নি। নতুন চেয়ারম্যান কে হবেন, তা নিয়ে শহরের রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন ‘যোগ্যতা’ বেশি গুরুত্ব পাবে? অভিজ্ঞতা? নাকি তারুণ্য? তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। দলের একাংশ বলছেন, সুযোগ বেশি কোনও প্রবীণ ও অভিজ্ঞ কাউন্সিলারের। আবার নবীন মুখেরও পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ পদে বসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের দৌড়ে অন্তত চারজন নবীন-প্রবীণ কাউন্সিলারের নাম উঠে এসেছে। বিভূতিভূষণ ঘোষ, বৈশিষ্ট্য ত্রিবেদী, প্রিয়াংকা চৌধুরী গঙ্গোপাধ্যায় ও বিশ্বজিৎ হালদার।
১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিভূতিভূষণ অভিজ্ঞতার নিরিখে অনেকটাই এগিয়ে। ১৯৯৫ সাল থেকে টানা ১০ বছর কংগ্রেসের টিকিটে চেয়ারম্যান ছিলেন। পরবর্তীতে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। তারপর ২০১৪-২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি তৃণমূলের চেয়ারম্যান ছিলেন। সব মিলিয়ে পুর প্রশাসনে প্রায় ১১ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আর একটি বড় গুণ হল, তিনি দক্ষ হাতে সংগঠন সামলাতে পারেন। তবে বিভূতির বয়স হয়েছে। পুরসভা এলাকায় সক্রিয়তা বাড়াতে বয়স্ক মুখকে সুযোগ দেওয়া হবে কি না, সেটাই প্রশ্ন।
চেয়ারম্যান পদের আরেক দাবিদার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বৈশিষ্ট্য ত্রিবেদীর ক্ষেত্রেও অনেকটা একই কথা প্রযোজ্য। ২০০০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলেছেন। ২০২১ সালে মাস ছয়েকের জন্য পুর প্রশাসকের দায়িত্বও সামলেছেন। কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রেও বয়সটা একটা ফ্যাক্টর।
এবার আসা যাক নবীন দাবিদারদের কথায়। স্থানীয় রাজনীতিতে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার প্রিয়াংকা নবীন হলেও তাঁর উত্থান হয়েছে দ্রুতগতিতে। নবীন প্রজন্মের মধ্যে জনসংযোগ ভালো। এই পুরসভায় একজন মহিলা মুখকে নিয়ে এসে চমক দিতে পারে তৃণমূল। আর চতুর্থ দাবিদার বিশ্বজিৎ হালদারেরও বয়স কম। তিনি আবার প্রয়াত জেলা তৃণমূল নেতা দুলাল সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন। এককথায় দুলাল সরকারের রাজনৈতিক ভাবশিষ্য। ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিশ্বজিতের নাম উঠে আসার ক্ষেত্রে এই দুলাল-আবেগও একটা কারণ তো বটেই।
নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব আপাতত মুখে কুলুপ এঁটেছে। জেলা তৃণমূলের সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী বলেন, ‘পুরাতন মালদা পুরসভার চেয়ারম্যান কে হবেন, তা নিয়ে জেলা নেতৃত্বের তরফে কোনও প্রস্তাব পাঠানো হয়নি। আমরা কিছু জানি না। চেয়ারম্যান একমাত্র রাজ্য নেতৃত্ব ঠিক করবে। তার পরেই আমরা তা ঘোষণা করব।’
এদিকে, বিরোধীরা চেয়ারম্যান নির্বাচনে এই বিলম্ব নিয়ে সমালোচনায় সরব হয়েছে। প্রাক্তন বাম চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ সুকূল বলেন, ‘তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দরকষাকষির কারণেই চেয়ারম্যান পদ খালি আছে। ওরা এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। ফলে মানুষ বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছেন।’

