Old Malda | উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত গোটপাড়ার প্রমীলারা 

শেষ আপডেট:

সিদ্ধার্থশংকর সরকার, পুরাতন মালদা: রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দুয়ারে সরকার বা অন্যান্য প্রকল্পের মাধ্যমে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পৌঁছে যায়। কিন্তু পুরাতন মালদা (Old Malda) ব্লকের মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েতের গোটপাড়া গ্রামের ছবিটা খানিকটা অন্যরকম। এই গ্রামের অনেক মানুষ বিশেষত মহিলারা এখনও সরকারি বিভিন্ন সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই মহিলাদের মধ্যে কারও বয়স ৩৫, কারও ৪৫, আবার কেউ ষাটোর্ধ্ব।

এই এলাকার বাসিন্দা পুষ্পা কল, কল্পনা প্রামাণিক, জ্ঞানদা রাজবংশী সহ বহু মহিলা দিনের পর দিন ধরে প্রশাসনিক কর্তাদের দরজায় কড়া নেড়েছেন। কিন্তু বিশেষ কোনও লাভ হয়নি। এই মহিলাদের মধ্যে অনেকের হয়তো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢোকেনি, কেউ আবার বার্ধক্য ভাতা পাচ্ছেন না, আবার কেউ বিধবা ভাতা থেকে বঞ্চিত। স্থানীয় বাসিন্দা কল্পনা প্রামাণিকের কথায়, ‘আমার মতো এলাকার অনেক মহিলা বহুবার বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করেছেন। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। আমাদের মধ্যে এখনও অনেকে ভাঙাচোরা ঘরে থাকেন। কারণ আমরা আবাস যোজনার ঘর পাইনি।’

মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নবনীতা মণ্ডল অবশ্য জানান, যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বার্ধক্য ভাতা ইত্যাদির জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের টাকা এখনও ছাড়া হয়নি। টাকা ছাড়া হলে সবাই পেয়ে যাবেন।

গোটপাড়ার বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে অন্যতম হল বাড়িতে শৌচালয়ের অভাব। স্থানীয় বাসিন্দা জ্ঞানদা রাজবংশীর অভিযোগ, ‘আমাদের এলাকায় অনেকের বাড়িতে এখনও শৌচালয় না থাকায় আমাদের সমস্যা হয়। এই দুর্দশার কথা স্থানীয় পঞ্চায়েত এবং ব্লক প্রশাসনের কাছে বহুবার জানিয়েছি, তা সত্ত্বেও শৌচালয় তৈরি হয়নি।’ একই কথা জানান গ্রামের অন্য মহিলারা। তাঁদের প্রশ্ন, সরকারি পরিষেবাগুলি কাদের জন্য? যাঁদের প্রকৃত এই পরিষেবার প্রয়োজন, তাঁরা কেন এর থেকে বঞ্চিত?

এবিষয়ে পুরাতন মালদার বিডিও সেঁজুতি পাল মাইতি বলেন, ‘কেন গ্রামের মহিলারা বিধবা ভাতা বা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন না সেবিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। তবে, বাড়িতে শৌচালয় তৈরির জন্য যদি কেউ আবেদন করেন, তাহলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।’ তিনি আরও জানান, এলাকার উন্নয়ন থেমে নেই এবং মানুষকে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে।

৬২ বছর বয়সি সূর্যি মুর্মু একপ্রকার হতাশার সঙ্গে বলেন, ‘বার্ধক্য ভাতার জন্য আবেদন করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি। এই বয়সেও কাজ করে খাবার জোগাড় করতে হচ্ছে। কিন্তু সরকারি কোনওরকম সুযোগসুবিধা পাচ্ছি না। অথচ যাঁদের প্রয়োজন নেই, তাঁরা সবরকম পরিষেবা পাচ্ছেন।’ যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় একাধিক আশ্বাস তাঁরা পেয়েছেন। তাঁদের বিশ্বাস, একদিন তাঁদের অবস্থার পরিবর্তন হবে এবং তাঁরাও উন্নয়নের জোয়ারে সমানভাবে অংশ নিতে পারবেন।

Sushmita Ghosh
Sushmita Ghoshhttps://uttarbangasambad.com/
Sushmita Ghosh is working as Sub Editor Since 2018. Presently she is attached with Uttarbanga Sambad Digital. She is involved in Copy Editing, Uploading in website and various social media platforms.

Share post:

Popular

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

More like this
Related

Malda | রাতের অন্ধকারে পুলিশের হানা, বিহারের অস্ত্র সহ ধৃত দুই, নেপথ্যে বড় কোনো ছক?

মালদা: ফের একবার বড়সড়ো অস্ত্র পাচারের ছক ভেস্তে দিল...