নয়াদিল্লি: বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলের চূড়ান্ত লগ্নে পৌঁছে গেল ঢাকা। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla)। সঙ্গী হবেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির কারণে তিনি ঢাকায় উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তবে ওম বিড়লার উপস্থিতি (Om Birla Dhaka Visit) প্রমাণ করে, প্রতিবেশী বদলালেও বন্ধুত্বের সম্পর্কে ফাটল ধরতে দিতে নারাজ নয়াদিল্লি।
মোদীর ফোনালাপ ও ওম বিড়লার সফর
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এই বিপুল জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি তারেক রহমানকে ফোন করে অভিনন্দন জানান। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমরা পাশে থাকব। দুই দেশের শান্তি, প্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তবে ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্য়াক্রোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ব্যস্ত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তাই তাঁর পরিবর্তে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সাউথ ব্লক সূত্রে খবর, স্পিকারের এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। এটি দুই প্রতিবেশী দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতীক।
উপস্থিত থাকবেন শাহবাজ শরিফও
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির এক বিরল চিত্র দেখা যেতে পারে। জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও (Shehbaz Sharif) এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসছেন। অন্তর্বর্তী সরকার ভারত, চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, কাতার-সহ মোট ১৩টি দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। চীন এবং পাকিস্তানের উপস্থিতির মাঝে ভারতের প্রতিনিধিত্ব তাই কৌশলগতভাবে (India-Bangladesh Relations) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‘কারও দাদাগিরি মানব না’: তারেক রহমান
লন্ডনে ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরা তারেক রহমান জয়ের পরেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ঢাকার বিদেশনীতি পরিচালিত হবে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে। ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কথা বললেও, তিনি মন্তব্য করেন যে বাংলাদেশ কোনও দেশকে ‘প্রভু’ বা ‘মাস্টার’ হিসেবে মানবে না। তবে মোদীর শুভেচ্ছা বার্তার জবাবে বিএনপি জানিয়েছে, তারা ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। হাসিনা-বিহীন বাংলাদেশে বিএনপি ও জামায়াতের (৬৮ আসন) উত্থান ভারতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হলেও, ওম বিড়লার সফর বুঝিয়ে দিচ্ছে—কূটনীতির ময়দানে ভারত জমি ছাড়তে রাজি নয়।

