উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ মামলায় ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল মামলার রায়দান হতে চলেছে আগামীকাল। বুধবার হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার রায় ঘোষণা করবেন। ২০২৩ সালের ১২ মে তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বেনিয়মের অভিযোগে একসঙ্গে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল করে দেন। বিচারপতি নির্দেশ দেন, চাকরি বাতিল হলেও শিক্ষকরা স্কুলে যাবেন তবে নতুন করে ফের তিন মাসের মধ্যে নিয়োগ শুরু করতে হবে।
সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। তৎকালীন বিচারপতি সুব্রত তালুকদার এবং বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের চাকরি বাতিল সংক্রান্ত রায়ের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে। তবে একই সঙ্গে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ মতো নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ বহাল রাখা হয়। এরপর সিঙ্গল বেঞ্চ ও ডিভিশন বেঞ্চের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ও রাজ্য সরকার। চাকরিহারাদের একাংশও সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান। তারা জানান, সিঙ্গল বেঞ্চ তাদের বক্তব্য না শুনেই রায় দিয়েছে। এরপর সুপ্রিম কোর্ট সব পক্ষের বক্তব্য শোনার নির্দেশ দিয়ে এই মামলা ফের হাইকোর্টে ফেরত পাঠায়। এর পরে মামলা যায় বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে। ১২ নভেম্বর হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি শেষ হলেও রায় স্থগিত রেখেছিল হাইকোর্ট। আগামীকাল সেই মামলারই রায় দেবে ডিভিশন বেঞ্চ।
২০১৪ সালে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় টেট পরীক্ষার ভিত্তিতে ২০১৬ সালে ৪২,৯৪৯ জনকে চাকরি দেওয়া হয়। মামলাকারীদের অভিযোগ, ওই ৪২,৯৪৯-এর মধ্যে ৩২,০০০ প্রার্থী ‘অপ্রশিক্ষিত’। সঠিক পদ্ধতিতে ইন্টারভিউ এবং ‘অ্যাপ্টিটিউড টেস্ট’ না নিয়েই চাকরি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও রাজ্য সরকার ও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ জানায় কোনও দুর্নীতি হয়নি, কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল, তা ঠিক করে নেওয়া হয়েছে। যদিও সেই যুক্তি আদালত মানে কিনা সেটাই এখন দেখার।

