উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম (Nandigram Candidate) নিয়ে সব জল্পনার অবসান ঘটল। মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করল পবিত্র করকে। মঙ্গলবার কালীঘাটে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার ঠিক আগেই বিজেপিতে বড়সড় ভাঙন ধরিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন পবিত্রবাবু (Pabitra Kar)। আর যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর নাম নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করল জোড়াফুল শিবির।
কে এই পবিত্র কর?


রাজনৈতিক মহলে পবিত্র কর অত্যন্ত দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে নন্দীগ্রামের বয়াল ও তৎসংলগ্ন এলাকার প্রতিটি বুথ তাঁর নখদর্পণে। একসময় তমলুক সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সহ-সভাপতি পদে থাকা পবিত্রবাবু গত বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর ভোট কৌশলের অন্যতম কারিগর ছিলেন। বয়াল এলাকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিদর্শনের সময় যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেই সময় গেরুয়া শিবিরের সংগঠন সামলেছিলেন এই পবিত্র করই।
কেন তাঁকে বেছে নিল তৃণমূল?
শুভেন্দু অধিকারীর মতো হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে নন্দীগ্রামের মাটি চেনেন এমন কাউকেই চাইছিল তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পবিত্র করকে প্রার্থী করে বিজেপিকে তাদেরই গড়ে অস্বস্তিতে ফেলতে চাইল শাসক দল। বিজেপি যখন শুভেন্দুকে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—দুই কেন্দ্র থেকেই লড়াইয়ের ময়দানে নামিয়েছে, তখন তৃণমূলের এই ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ চাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
মর্যাদার লড়াই
একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হার এবং শুভেন্দুর জয় রাজ্য রাজনীতির গতিপথ বদলে দিয়েছিল। ছাব্বিশের নির্বাচনে সেই হারের বদলা নিতে মরিয়া ঘাসফুল শিবির। অন্যদিকে, নিজের গড় রক্ষা করা শুভেন্দুর কাছেও প্রেস্টিজ ফাইট। পবিত্র কর কি পারবেন শুভেন্দুর গড়ে ফাটল ধরাতে? নাকি বিরোধী দলনেতার দাপটেই ফের মুখ থুবড়ে পড়বে তৃণমূল? এর উত্তর মিলবে ভোটবাক্সেই।

