ময়নাগুড়ি: বয়স ১০০ পেরিয়ে ১০৩-এর ঘরে। শরীরে বার্ধক্যের ছাপ স্পষ্ট হলেও নাগরিক কর্তব্যে অবিচল পদ্মশ্রী মঙ্গলাকান্ত রায় (Padma Shri Mangala Kanta Roy)। বুধবার ময়নাগুড়ির (Maynaguri) ধওলাগুড়ি এলাকায় নিজের বাড়িতে বসেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের (WB Election 2026) ভোট দিলেন এই প্রবীণ সারিন্দা শিল্পী। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ উদ্যোগে ৮০ বছরের ঊর্ধ্বের ভোটারদের জন্য ‘ভোট ফ্রম হোম’ পরিষেবার আওতায় এদিন তাঁর বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলেন ভোটকর্মীরা।
কড়া কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় এদিন ময়নাগুড়ি আমগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ধওলাগুড়ি এলাকায় মঙ্গলাকান্তের বাড়িতে পৌঁছান তিন ভোটকর্মী। ভোট দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে আঙুলের কালির দাগ দেখিয়ে একরাশ আক্ষেপ উগরে দেন তিনি। প্রবীণ শিল্পীর কথায়, “সরকার শুধু পুরস্কারই দেয়, কিন্তু কোনো সাহায্য করে না।” তিনি জানান, আগে তিনি বৃদ্ধ ভাতা পেতেন, কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে রহস্যজনকভাবে সেই ভাতাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে।


২০২৩ সালে সারিন্দা বাদক হিসেবে অসামান্য অবদানের জন্য কেন্দ্র সরকার তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করে। মঙ্গলাকান্ত রায়ের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এই বড় পুরস্কার ছাড়া আর কোনো আর্থিক সাহায্য কেন্দ্রের তরফে মেলেনি। তবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ‘বঙ্গ রত্ন’ পুরস্কার দেওয়ার সময় তাঁকে এক লক্ষ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়েছিল। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটানো এই শিল্পীর আক্ষেপ, পুরস্কার সম্মান দিলেও পেটের টান মেটানোর মতো স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা হয়নি।
এদিন শতায়ু এই শিল্পীর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সাক্ষী থাকতে ভিড় জমিয়েছিলেন প্রতিবেশীরাও। তবে মঙ্গলাকান্তের এই আক্ষেপ ভোটের আবহে ফের একবার শিল্পীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।

