উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: প্রতিবেশী দুই দেশের সীমান্ত সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটিয়ে এবার সরাসরি আকাশপথে একে অপরকে নিশানা করল পাকিস্তান ও আফগানিস্তান (Pakistan Afghanistan border conflict)। রবিবার গভীর রাতে আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশে একাধিক ‘সন্ত্রাসবাদী ডেরা’ ধ্বংসের দাবি জানিয়ে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তানি বায়ুসেনা। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা জবাব দেয় আফগান তালিবান। দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের ‘ওয়ানা’ এলাকায় পাক সেনার একটি বিশেষ ক্যাম্পে ড্রোন হামলা চালিয়ে বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির (Military infrastructure) দাবি করেছে কাবুল।
অপারেশন ‘গজব লিল-হক’ ও পাকিস্তানের অবস্থান:
পাক তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির শেষে শুরু হওয়া ‘অপারেশন গজব লিল-হক’-এর অংশ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। ইসলামাবাদে দাবি, কান্দাহারে নিষিদ্ধ সংগঠন টিটিপি (Tehreek-i-Taliban Pakistan) বা ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’-এর সামরিক পরিকাঠামো এবং সুড়ঙ্গ পথ লক্ষ্য করে নিখুঁত নিশানা করা হয়েছে। পাক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আফগানিস্তান সাধারণ মানুষকে নিশানা করে রেড লাইন পার করেছে।”
তালিবানের বয়ান ও প্রত্যাঘাত:
আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ অবশ্য পাকিস্তানের দাবি নস্যাৎ করেছেন। তাঁর মতে, পাক হামলায় একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র ও কিছু খালি কন্টেনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর বদলা নিতেই আফগান বায়ুসেনা ইউনিট দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে পাক সেনার ক্যাম্পে হামলা চালায়। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, এই প্রত্যাঘাতে পাক বাহিনীর ব্যাপক প্রাণহানি ও বস্তুগত ক্ষতি হয়েছে।
মানবিক সংকট ও ঘনীভূত যুদ্ধমেঘ:
রাষ্ট্রপুঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহের এই সীমান্তে সংঘর্ষে (Border Conflict) অন্তত ১৮৫ জন বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। শুক্রবার কোয়েটাতে আফগান ড্রোন থেকে পড়া ধ্বংসাবশেষে দুই শিশু আহত হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, এই পাল্টাপাল্টি হামলা শীঘ্রই একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

