বর্ধমান: উপার্জনের আশায় ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়ে চরম লাঞ্ছনার শিকার হয়েছিলেন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের জৌগ্রামের তেলে গ্রামের বাসিন্দা পলাশ অধিকারী ও তাঁর পরিবার (Voter List Deletion)। ব্যাঙ্গালুরু পুলিশের ‘বাংলাদেশি’ তকমা আর ১০ মাসের জেল জীবনের পর এবার তাঁরা হারালেন তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সাম্প্রতিক তালিকায় জৌগ্রামের ৭৮ নম্বর বুথের ভোটার হিসেবে পলাশ, তাঁর মা সবিতাদেবী, স্ত্রী শুক্লা এবং বোন সাথী—কারোরই নাম মেলেনি।
ব্যাঙ্গালুরুর সেই বিভীষিকা
ঘটনাটি প্রায় সাড়ে তিন বছর আগের। ২০২২ সালের ২৭ জুলাই ব্যাঙ্গালুরুর ভারথুর (Varthur) থানার পুলিশ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে পলাশ ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেফতার করে। তাঁদের সঙ্গে থাকা পশ্চিমবঙ্গের ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড বা অন্যান্য নথিপত্র দেখালেও পুলিশ তা গ্রাহ্য করেনি বলে অভিযোগ। শিশু সন্তানকে নিয়ে টানা ১০ মাস জেলে কাটাতে হয় দম্পতিকে। এই লড়াই চালাতে গিয়ে সর্বস্ব খুইয়ে মানসিক কষ্টে মারা যান পলাশের বাবা পঙ্কজ অধিকারী। পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পেয়ে গ্রামে ফিরলেও এখন ভোটাধিকার হারিয়ে দিশেহারা এই দরিদ্র পরিবার।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
ঘটনাটি জানাজানি হতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা:
- তৃণমূলের অভিযোগ: জামালপুরের তৃণমূল প্রার্থী ভূতনাথ মালিকের দাবি, “এটি বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের চক্রান্ত। একজন ভূমিপুত্রকে এভাবে নাগরিকত্বহীন করার চেষ্টা হচ্ছে।”
- বিজেপির পালটা: জামালপুরের বিজেপি প্রার্থী অরুণ হালদার এই পরিস্থিতির জন্য রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেছেন। তাঁর দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিএএ (CAA) নিয়ে মানুষকে শুধু ভয় দেখিয়েছেন। পলাশের কাছে সঠিক নথি থাকলে এই সমস্যা হতো না।” তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, জাতীয় তপশিলি কমিশনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি পলাশদের পাশে দাঁড়াবেন।
ভবিষ্যতে অনিশ্চয়তা
বাম আমল থেকে ভোট দেওয়া পলাশ অধিকারী এখন একটি বেসরকারি ডেলিভারি সংস্থায় কাজ করেন। সামান্য উপার্জনে সংসার চললেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় তাঁর ভবিষ্যৎ এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে। সবিতাদেবী আক্ষেপ করে বলেন, “কেন আমাদের নাম বাদ দেওয়া হলো জানি না, এখন আমরা কোথায় যাব?”
ভোটের আগে এই ঘটনা নাগরিকত্ব এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল বর্ধমানে।

