উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ প্যারিস অলিম্পিকের ম্যারাথনে সবার শেষ দৌড় শেষ করেন ভুটানের কিনজ্যাং লামো। লাস্ট হয়েও তিনি পেলেন দর্শকে প্রবল উৎসাহ। সঙ্গ দিলেন দর্শকদের অনেকেই। আর দর্শকদের এমন আচরণ ও ভালোবাসাই অলিম্পিকের পদক জয় বলে মনে করছেন কিনজ্যাং। আরও একবার বোঝা গেল এটাই অলিম্পিক গেমসের মাহাত্ম্য।
রবিবার প্যারিস অলিম্পিক্সের শেষ দিনে অনুষ্ঠিত হয় মেয়েদের ম্যারাথন দৌড়। মহিলাদের এই ইভেন্টে অংশ নেন মোট ৯১জন অ্যাথলিট। যাঁদের মধ্যে রেস শেষ করেন ৮০ জন। ১১ জন অ্যাথলিট ইভেন্ট শেষই করতে পারেননি। ৮০ নম্বরে রেস শেষ করেন ভুটানের কিনজ্যাং লামো। তিনি ইভেন্ট শেষ করতে সময় নেন ৩ ঘণ্টা ৫২ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড। একের পর এক অ্যাথলিট যখন মাঝপথেই রেস ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন, কিন্তু হাল ছাড়েননি কিনজ্যাং লামো। তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। তাঁকে শেষ এক ঘণ্টা দৌড়তে হয় একা।


এই দীর্ঘ একঘন্টা পথ তিনি পাশে পেয়েছেন দর্শকদের। তাঁকে উৎসাহ দিতে অনেকেই সাইকেল চালিয়ে তাঁকে সঙ্গ দেন। এমনকি অনেক দর্শকেও ভুটানের এই অ্যাথলিটের সঙ্গে দৌড়াতে দেখা যায়। দর্শকদের চিৎকার ও করতালি কিনজ্যাংকে দৌড় শেষ করতে মানসিক বল জোগায়। কিনজ্যাং রেস শেষ করার পরে দর্শকদের বিপুল অভিবাদন পান। সকলে দাঁড়িয়ে তাঁকে কুর্নিশ জানান। প্যারিস অলিম্পিকে পদক না পেলেও রেসের শেষ মুহূর্তটা কিনজ্যাং লামোর খেলোয়াড় জীবনের সব থেকে বড় পাওনা হিসেবে বিবেচিত হবে নিশ্চিত।
এদিনের ম্যারাথনে রেকর্ড গড়ে গোল্ড মেডেল জেতেন নেদারল্যান্ডসের সিফান হাসান। তিনি সময় নেন ২ ঘণ্টা ২২ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড। দ্বিতীয় হয়ে রুপো জেতেন ইথিওপিয়ার আসেফা। তিনি সময় নেন ২ ঘণ্টা ২২ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড। চ্যাম্পিয়ন সিফানের থেকে মোটে ৩ সেকেন্ডে পিছিয়ে থাকেন রুপোজয়ী তারকা। তৃতীয় স্থানে থেকে ব্রোঞ্জ জেতেন কেনিয়ার হেলেন ওবিরি। তিনি সময় নেন ২ ঘণ্টা ২৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড। ভুটানের কিনজ্যাং লামো দৌড় শেষ করতে সময় নেন ৩ ঘণ্টা ৫২ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড। অর্থাৎ, সোনাজয়ী সিফানের থেকে ১ ঘণ্ট ৩০ মিনিট ৪ সেকেন্ড সময় বেশি নেন লামো। লামোর ঠিক আগে অর্থাৎ ৭৯তম স্থানে দৌড় শেষ করেন নেপালের শান্তশি শ্রেষ্ঠা। তিনি সময় নেন ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট ৬ সেকেন্ড।

