প্যারিস: ফুটবলার হিসেবে জীবন শুরু করেছিলেন। স্বপ্ন ছিল দেশের জার্সি। কিন্তু ২০০৯ সালে ভাইজ্যাগে এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় বঁা পা হারাতে হয়। বছর খানেক শয্যাশায়ী ছিলেন। কিন্তু হরিয়ানার নীতেশ কুমারের অদম্য ইচ্ছার কাছে কোনও বাধাই বড় হয়ে উঠতে পারেনি। আইআইটি মান্ডিতে পড়ার সময় ব্যাডমিন্টনের প্রেমে পড়েছিলেন। সোমবার সেই ব্যাডমিন্টন র্যাকেটই ২৯ বছরের নীতেশকে প্যারিস প্যারালিম্পিকে সোনা এনে দিল। নীতেশের সোনার সঙ্গে এদিন ভারতের ঝুলতে এল চার পদক।
গত দুটি বিশ্ব প্যারা চ্যাম্পিয়নশিপে রুপো ও ব্রোঞ্জ জিতে সলতে পাকিয়েছিলেন। এদিন কেরিয়ারের প্রথম প্যারালিম্পিকে স্ফুলিঙ্গ হয়ে উঠলেন নীতেশ। পুরুষদের সিঙ্গলসে এসএল থ্রি ক্যাটিগোরিতে দ্বিতীয় বাছাই গ্রেট ব্রিটেনের ড্যানিয়েল বেথলকে ২১-১৪, ১৮-২১, ২৩-২১ পয়েন্টে হারালেন নীতেশ। দেশকে সোনা এনে দেওয়ার পর নীতেশের মুখে টিম ইন্ডিয়ার তারকা বিরাট কোহলির কথা। বলেছেন, ‘২০১৩ সালের পর থেকে বিরাট ফিটনেস নিয়ে প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছে। ও এখন বিশ্বের সবচেয়ে ফিট ক্রিকেটার। অসম্ভব ডিসিপ্লিনড। আমিও কোহলির ফিটনেস মন্ত্রকে অনুসরণ করার চেষ্টা করি।’
কেরিয়ারের প্রথম প্যারালিম্পিকে সোনা জিতেছেন-ফাইনালের পর এটা অনুভব করতেই বেশ কিছুটা সময় লেগে যায় নীতেশের। পরে নিজেকে সামলে বলেছেন, ‘এখনও স্বপ্নের মতো লাগছে। হয়তো পোডিয়ামে দঁাড়ানোর পর জাতীয় সংগীত কানে এলে বিশ্বাস হবে।’
প্রথম গেমে ড্যানিয়েলকে উড়িয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয়তে পা হড়কান শীর্ষবাছাই নীতেশ। তৃতীয় গেমেও নীতেশ ১৯-১৬ পয়েন্টে এগিয়ে থাকার সময় ড্যানিয়েল চাপ বাড়িয়েছিলেন। জয়ের পর এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আগে হেরেছি আমি। এবার একই ভুল করতে চাইনি। অতীতে আমি এই রকম অবস্থায় নিজেকে শান্ত রাখতে ব্যর্থ হয়েছিলাম। এদিন নিজেকে বলেছিলাম, শেষপর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। এমনকি ডিসাইডারে ২০-১৯ পয়েন্টে থাকার সময়ও মাথা ঠান্ডা রেখেছি। সাধারণত আমি এত ধৈর্য নিয়ে খেলতে পারি না।’
ব্যাডমিন্টন থেকে খুশির তখনও বাকি ছিল। মহিলাদের সিঙ্গলসে এসইউ-৫ ক্যাটিগোরি থেকে ভারতকে জোড়া পদক এনে দেন থুলাসিমাথি মুরুগেশন ও মনীষা রামদাস। ফাইনালে সেরাটা দেওয়ার পরও শীর্ষবাছাই মুরুগেশনকে ১৭-২১, ১০-২১ পয়েন্টে চিনের গতবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়াং কিউজিয়ার বিরুদ্ধে হেরে রুপো নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। ডেনমার্কের ক্যাথরিন রোসেনজেনকে ২১-১২, ২১-৮ পয়েন্টে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জেতেন মনীষা। এর আগে সেমিফাইনালে মুরুগেশনের বিরুদ্ধে মনীষা হেরেছিলেন।
নীতেশের আগেই দেশকে সুখবর দেন যোগেশ কাঠুনিয়া। তিনি পুরুষদের ডিসকাস থ্রোয়ে এফ-৫৬ ক্যাটিগোরিতে রুপো জেতেন। ২৭ বছরের যোগেশ ৪২.২২ মিটার ছুড়ে পদক নিশ্চিত করেন। যা তঁার চলতি মরশুমের সেরা থ্রো।

