উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট (T20 World Cup Boycott) করে বিশ্ব ক্রিকেটে প্রবল চাপের মুখে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) (Pakistan Cricket Board)। তবে আইসিসি-র সম্ভাব্য কড়া শাস্তি ও আর্থিক জরিমানা এড়াতে এবার একটি অভিনব কৌশল নিতে চলেছে মহসিন নকভিরা। পাক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইসিসি-র শাস্তি থেকে বাঁচতে পিসিবি ২০১৮ সালের একটি পুরোনো আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্তকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালে। ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতের সঙ্গে সাতটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ার কারণে বিসিসিআই-এর কাছে প্রায় ৫৬৮ কোটি টাকা (৬৩ মিলিয়ন ডলার) ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল পাকিস্তান। সে সময় আইসিসি-র ‘ডিসপুট রেজোলিউশন কমিটি’ (DRC 2018)-তে ভারত যুক্তি দিয়েছিল যে, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি না থাকায় তারা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে পারছে না। আইসিসি ভারতের সেই ‘অপারগতা’ মেনে নিয়ে পাকিস্তানের দাবি খারিজ করে দেয়।
এবার পাকিস্তান সরকার নির্দেশ দিয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ম্যাচ বয়কট করার। পিসিবি-র যুক্তি হলো—যদি ভারত সরকারের দোহাই দিয়ে সেবার শাস্তি এড়াতে পারে, তবে পাকিস্তান কেন পারবে না? নিজেদের অপারগতার কথা আইসিসি-কে জানিয়ে তারা বলতে চায় যে, সরকারের নির্দেশ অমান্য করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রয়োজনে আইসিসি-র সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত (CAS)-এর দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন নকভিরা।
পিসিবি-র এই যুক্তিতে বড় একটি ফাঁক দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতের বিষয়টি ছিল দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নিয়ে, যেখানে বিসিসিআই নিরপেক্ষ দেশে খেলার কথাও বলেনি। কিন্তু বর্তমান বিশ্বকাপে আইসিসি ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের দাবি মেনে ‘হাইব্রিড মডেল’ কার্যকর করেছে এবং তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া, আইসিসি-র ইভেন্টে অংশগ্রহণ করার জন্য প্রতিটি দেশ চুক্তিবদ্ধ থাকে। ফলে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের যুক্তি দিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচ বয়কট করাকে কতটা আইনি বৈধতা দেওয়া যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

