উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ রয়াল বেঙ্গল টাইগারের চামড়া পাচার করতে গিয়ে বনকর্মীদের হাতে ধরা পড়ল এক নামী চিকিৎসকের ছেলে সহ মোট দুই পাচারকারী। বাঘের চামড়াটি বিদেশে পাচারের পরিকল্পনা ছিল তাদের। বন্যপ্রাণীর এই দেহাংশটি উদ্ধার হয়েছে গয়া থেকে। জামশেদপুরের এক মহিলার থেকে বাঘের চামড়াটি সংগ্রহ করেছিল বলে জেরায় জানিয়েছে পাচারকারীরা।
জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিহার বনদপ্তরের ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায় গয়ার কাছে তেকারি ব্লক এলাকায়। সেখানে একটি গাড়িকে চিহ্নিত করা হয়। সেই গাড়িটিকে বেশ কয়েক কিলোমিটার তাড়া করে ধরে ফেলেন বন দপ্তরের আধিকারিকরা। গাড়িটিকে দাঁড় করিয়ে তল্লাশি শুরু করে বনকর্মীরা। ওই গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় একটি পূর্ণবয়ষ্ক রয়াল বেঙ্গল টাইগারের চামড়া। দেহাংশটি গাড়ির ভেতরে একটি কালো ব্যাগের মধ্যে রাখা ছিল। চামড়াটি দশ বছরের পুরানো বলে মনে করা হচ্ছে। এই গাড়ি থেকে বন্যপ্রাণীর দেহাংশ রাখার অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয় দুই পাচারকারীকে। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে ধৃতদের একজনের নাম অভিনব আনন্দ। যার বাবার নাম ডাঃ পিএন চৌধুরী। অপরজন কুন্দন কুমার। তারা জেরায় স্বীকার করেছে জামশেদপুরের এক মহিলার কাছ থেকে চামড়াটি সংগ্রহ করেছেন অন্যত্র পাচারের উদ্দেশ্যে।


প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে বিদেশি পর্যটকদের হাতে এই বাঘের চামড়া তুলে দেওয়ার ছক কষেছিল পাচারকারীরা। উত্তর ও উত্তর পূর্বের দেশ থেকে প্রচুর পর্যটক গয়াতে বেড়াতে আসেন। তাদের হাতে এই বাঘের চামড়া ও দেহের অবশিষ্ট অংশ চড়া দামে বিক্রি করার ছক কষেছিল পাচারকারীরা। বাঘকে বিপন্ন প্রাণী হিসাবে গণ্য করা হয়। বাঘ মারলে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। ৫০,০০০ থেকে ২,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

