মাদারিহাট: শনিবার মাদারিহাটের একটি বেসরকারি লজে শুরু হল পর্যটন নিয়ে দু’দিনের কর্মশালা। এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায়, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের বিভাগীয় বনাধিকারিক পারভিন কাসোয়ান, অসমের বিশিষ্ট পরিবেশবিদ সৌম্যদীপ দত্ত সহ গাইড, গাড়ি মালিক ও বিভিন্ন লজের প্রতিনিধিরা। উদ্যোক্তা ছিল ইস্টার্ন ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। এই সংগঠনের সম্পাদক বিশ্বজিৎ সাহা জানালেন, কর্মশালার মূল থিম এলিফ্যান্ট সেফ হাউস। অর্থাৎ জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের সীমানার ভেতর হাতিদের পছন্দের খাবারের গাছ লাগানো।
এদিন কর্মশালায় উপস্থিত বিশিষ্টজনদের হাত দিয়ে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের সীমানার ভেতর কাঁঠাল, চালতা, আমলকী গাছের চারা লাগানো হয়। এসব খাবার হাতিদের খুব প্রিয়। বিশ্বজিতের কথায়, বনের ভেতর প্রচুর সংখ্যায় এসব গাছ লাগানো হলে লোকালয়ে হাতির হানা কম হবে। কমবে মানুষ-হাতি সংঘাত। পার্থপ্রতিমের বক্তব্য, তাঁরা কোচবিহার রাজবাড়িকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করছেন। এখানে মজুত অস্ত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি রাজবাড়ির ইতিহাস গাইডদের মাধ্যমে পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের সদিচ্ছার অভাবে তাঁরা এগোতে পারছেন না।
পার্থর সংযোজন, আগামী বছর পর্যটকদের জন্য বিশেষ চারটি বাস চালু করা হবে। কোচবিহারের ঐতিহ্য দোতলা বাসের ছাদ খুলে পর্যটকদের ঘুরিয়ে দেখানো হবে। অন্যদিকে সৌম্যদীপ বলেন, ‘অসম এবং পশ্চিমবঙ্গে প্রচুর সংখ্যায় পর্যটক যাতায়াত করেন। পর্যটনকেন্দ্র ঘোরানোর জন্য তাঁদের সঙ্গে গাড়িচালকদের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। পর্যটনে মেলবন্ধন তৈরি করতে হবে। তবেই এলাকার অর্থনৈতিক বিকাশ ঘটবে।’

